দেশের বিভিন্ন বাজারে ডিমের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। শুক্রবার একটি ডিমের এক্স-ফার্ম প্রাইস প্রায় ৭ টাকা ছিল। খুচরো বাজারে অনেক জায়গায় একটি ডিম বিক্রি হয়েছে ৮.৫ থেকে ৯ টাকার মধ্যে।
পোলট্রি শিল্পের দাবি, পোলট্রি ফিডের খরচ দ্রুত বেড়ে যাওয়া এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের পরে আমদানি করা ফিডের উপাদান, ভুট্টা এবং সয়াবিন মিলের দাম বেড়েছে। তবে শিল্পমহলের আশা, উত্তর ভারতে শ্রাবণ মাসে চাহিদা কমে গেলে জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে দামে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।
ন্যাশনাল এগ কো-অর্ডিনেশন কমিটি (NECC)-র তথ্য অনুযায়ী, হায়দরাবাদে খামার স্তরে ডিমের দাম এক মাসে ১৫ শতাংশ এবং এক বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
ভেঙ্কটেশ্বর হ্যাচারিজ়ের জেনারেল ম্যানেজার কেজি আনন্দ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত শুরুর পরে থেকে পোলট্রির খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত প্রায় সব কাঁচামালের দাম বেড়েছে। পোলট্রি ফিডে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিডের দাম মার্চের পর ৩.৫ গুণ বেড়েছে। ফিডের প্রায় ৫৫ শতাংশই ভুট্টা। মার্চের পর তার দাম ৩৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। আবার ফিড মিশ্রণের প্রায় ২২ শতাংশ জুড়ে থাকা সয়াবিন মিলের দাম ৬৪ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।’ তিনি আরও জানান ভারতে উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ কম হওয়ায় সয়াবিনের দাম বেড়েছে।
শিল্পমহলের আশঙ্কা, বর্ষা দুর্বল হলে সয়াবিন উৎপাদন কমতে পারে। তাতে পোলট্রি ফিডের খরচ আরও বাড়তে পারে।
শুধু ডিম নয়, দীর্ঘস্থায়ী গরমে ব্রয়লার মুরগির উৎপাদনও কমেছে। শিল্পের তথ্য অনুযায়ী, খুচরো বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম এখন কেজি প্রতি ২৫০-২৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে।