আজ বিএসএফ-এর ‘প্রহরী সম্মেলন’-এ যোগ দেবেন অমিত শাহ
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৮ জুলাই ২০২৬
শুক্রবার রাজ্যে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এ বারের সফরে তাঁর একগুচ্ছ সরকারি কর্মসূচি রয়েছে। তবে কোনও ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই।১৮ জুলাই, শনিবার তিনি বিএসএফ-এর প্রহরী সম্মেলনে যোগ দেবেন শাহ। এই সফরে শিলিগুড়ি করিডর পরিদর্শনের পাশাপাশি জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকের জুম্মাগছ এলাকাতেও যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় জুম্মাগছ এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও অশান্তির অভিযোগ উঠেছিল। সেই কারণেও এই অঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ১৮ জুলাই সকালে উত্তরবঙ্গের দু’টি বিএসএফ ক্যাম্প পরিদর্শনের পর শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন অমিত শাহ।
বৈঠকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি, বিএসএফ আউটপোস্টের পরিকাঠামো উন্নয়ন, অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যসচিব, সীমান্তবর্তী জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, বিএসএফ, নারকোটিক্স ব্যুরো এবং কেন্দ্রের একাধিক সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকদের।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফাঁসিদেওয়া এবং জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একাধিক অংশ এখনও উন্মুক্ত। জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়নি। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফের হাতে জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের অগ্রগতিও খতিয়ে দেখতে পারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
১৯ জুলাই দক্ষিণবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠক করে আইনশৃঙ্খলা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা পর্যালোচনা করবেন অমিত শাহ। পরে ন্যাশনাল লাইব্রেরি পরিদর্শন এবং বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আমূলের নতুন প্ল্যান্টের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া উত্তরবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলির অগ্রগতির বিষয়েও তিনি খোঁজ নিতে পারেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে এখনও পর্যন্ত এই সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রশাসনের একাংশের দাবি, সীমান্ত এলাকায় দ্রুত কাঁটাতার নির্মাণ, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা, ওয়াচ টাওয়ার এবং অত্যাধুনিক ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনাও এই সফরে গুরুত্ব পেতে পারে।