• নিলামে ওঠে দোকান, জিলিপির প্যাঁচে ভরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
    এই সময় | ১৮ জুলাই ২০২৬
  • বুদ্ধদেব বেরা, ঝাড়গ্রাম

    এখনও ঢের দেরি লক্ষ্মীপুজোর। কিন্তু তাতে কী! তিন–চার মাস আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় তার সলতে পাকানো। না, পুজোর আয়োজন নিয়ে কোনও আলোচনা নয়, আলোচনা বসে জিলিপির দোকান কার কপালে রয়েছে তা নিয়ে।

    অবাক লাগছে? লাগারই কথা। তবে হাড়দার লোকজন একেবারেই অবাক হন না। কারণ, এটা তাঁদের কাছে লক্ষ্মীপুজোর আচার পালনের মতোই হয়ে গিয়েছে। বিষয়টা খোলসা করা যাক। হাড়দার লক্ষ্মীপুজো মানেই মুখরোচক, সুস্বাদু রসে টইটম্বুর জিলিপি। যার টানে সেখানে ভিড় করেন আশপাশের এলাকা এমনকী ভিন্ জেলার মানুষ। লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করে বসে মেলা। আর সেই মেলাতেই হাড়দা শ্রীশ্রী কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো কমিটির তরফে বসানো হয় জিলিপির দোকান। মেলায় জিলিপির দোকান থাকবে তা আর নতুন কী? কিন্তু হাড়দার মেলায় জিলিপির দোকানের রহস্যটা অন্যরকম। এখানে একটাই জিলিপির দোকান থাকবে। কেউ চাইলেও দ্বিতীয় আর জিলিপির দোকান মেলায় নৈব নৈব চ। আর তাই মেলায় জিলিপির দোকান কে দেবেন তা নিয়ে নিলাম ডাকে পুজো কমিটি। নিলামে সর্বোচ্চ দাম যিনি দেন তিনিই মেলায় জিলিপির দোকান দেওয়ার একমাত্র অধিকারী।

    প্রতি বছর পুজোর মাস তিন–চার আগেই এই নিলাম হয়। দিন কয়েক আগে লক্ষ্মীপুজোর মন্দির প্রাঙ্গণে সেই নিলামে সবাইকে পিছনে ফেলে হাড়দার ব্যবসায়ী সিন্টু সাহা ৩ লক্ষ ৯১ হাজার ৬০১ টাকায় জিলিপির দোকানের বরাত পেয়েছেন। যা এতদিনের মধ্যে​ রেকর্ড বলে জানাচ্ছেন কমিটির লোকজন। গত বছরেও জিলিপির দোকানের বরাত ছিল সিন্টুর হাতেই। তবে গত বারের তুলনায় প্রায় এ বার এক লক্ষ টাকা বেশি দাম দিতে হয়েছে তাঁকে।

    পুজোকমিটির সম্পাদক কার্তিক মণ্ডল বলেন, ‘বিষ্ণুপুরাণ মতে নারায়ণের দুই স্ত্রী লক্ষ্মী ও সরস্বতী। তাই আমরা একজনকে ছেড়ে কী ভাবে আরেক জনের পুজো পারি! তাই বহু বছর ধরেই এখানে লক্ষ্মী এবং সরস্বতীকে একসঙ্গে পুজো করা হয়ে আসছে। পুজোকে কেন্দ্র করে যে মেলা বসে তার অন্যতম আকর্ষণ এই জিলিপি।’ বিনপুর–২ ব্লকের হাড়দা পঞ্চায়েতের হাড়দা গ্রামের ৫০০টি মণ্ডল ও সাহা পরিবারের উদ্যোগে এই পুজো হয়ে আসছে।

    এত টাকা দিয়ে যে দোকান পেলেন তাতে লাভ হবে? প্রশ্নে মুচকি হাসেন সিন্টু। তাঁর কথায়, ‘গত বছর প্রায় ২৬ লক্ষ টাকার ব্যবসা হয়েছে। পুজো কমিটিকে দোকানের নিলাম বাবদ টাকা দেওয়ার পরেও ভালো অঙ্কের লাভ থাকে।’ তিনি জানান, চালের গুড়ি, বিউলির ডালের গুড়ি এবং ময়দার খামি (দিন দুই আগে থেকে ময়দা নরম করে মেখে রাখা থাকে) দিয়ে তৈরি হয় এই জিলিপি। কড়া পাকের এই জিলিপি এক মাসেরও বেশি সময় টাটকা থাকে বলে জানা গিয়েছে। আর এই জিলিপির টানেই উপচে পড়ে লক্ষ্মীপুজোর মেলা। লক্ষ্মীলাভ হয় দোকানিরও।

  • Link to this news (এই সময়)