এই সময়, কাঁথি: গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও মজবুত করতে এ বার অত্যাধুনিক উপগ্রহ প্রযুক্তির ব্যবহারে জোর দিল মৎস্যদপ্তর।
গত ২ জুলাই শঙ্করপুর থেকে মাছ ধরতে যাওয়া ‘জয় মা কালী’ ট্রলার দুর্ঘটনায় ১৫ জন মৎসজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণত মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলারগুলির উপরে নজরদারি ও তাদের অবস্থান জানার জন্য ওয়্যারলেস এবং জিপিএস সিস্টেমের ওপর নির্ভর করতে হয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত শঙ্করপুরের ওই ট্রলারটিতে এই ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও গত ৬ জুলাই থেকে ট্রলারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর পাঁচ দিন পরে ট্রলারটিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের বাঘের চরের কাছে উল্টানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ট্রলার থেকে এখনও পর্যন্ত ১১টি পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়েছে। দেহ শনাক্তকরণের জন্য নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারের লোকজনের রক্ত সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। এখন পর্যন্ত চার জনের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এই কারণে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলারগুলিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ‘টু ওয়ে এমএসএস ট্রান্সপন্ডার’' মেশিন বসানোর উপরে জোর দিয়েছে মৎস্যদপ্তর। ট্রান্সপন্ডার হল ওয়্যারলেস ট্র্যাকিং ডিভাইস। যা রেডিয়ো ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে সমুদ্রে যাওয়া ট্রলারের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। ট্রলারে বসানো এই বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। মৎস্যজীবীরাও যেমন সরাসরি কথা বলতে পারবেন। তেমনি অন্যান্য তথ্যও আদানপ্রদান অনেক সহজে করা যাবে।
মৎস্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রান্সপন্ডার মেশিনের মাধ্যমে সমুদ্রের ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নজরদারি করা সম্ভব। এই যন্ত্রের মাধ্যমে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলারগুলির গতিবিধির উপরে নজরদারির পাশাপাশি সমুদ্রের কোন অংশে বেশি বা কম মাছ আছে কিংবা কচ্ছপের অবস্থান আছে সেই তথ্যও জানতে পারবেন মৎস্যজীবীরা। মৎস্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দিঘা উপকূলে দেড় হাজারের বেশি লঞ্চ ও ট্রলার রয়েছে। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত শঙ্করপুর ও দিঘার ২০০র বেশি ট্রলারে এই মেশিন বসানো হয়েছে।
কাঁথি মৎস্যদপ্তরের সহ–মৎস্য অধিকর্তা (সামুদ্রিক) সুমন সাহা বলেন, ‘ট্রলারে এই অত্যাধুনিক ডিভাইস বসানো থাকবে। আর মৎস্যজীবীদের মোবাইলে বিশেষ অ্যাপ ইনস্টল করা থাকবে। স্যাটেলাইট প্রযুক্তির কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগেও এই ডিভাইস কাজ করবে। নিরাপত্তার কারণে মৎস্যজীবীদের ট্রলারগুলিতে এই মেশিন বসানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’