আমতলা, 18 জুলাই: বুলডোজার চলল তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার কার্যালয়ে। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর উপস্থিতিতে ভাঙা হল তাঁর দফতরের শেড। প্রশাসন সূত্রে খবর, একাধিকবার নোটিশ পাঠালেও এই চারতলা কার্যালয়ের কোনও বৈধ কাগজপত্র পাঠাননি তৃণমূল সাংসদ। তারপর শনিবার সকালে এই পদক্ষেপ করা হয়। স্বভাবতই দক্ষিণ 24 পরগনার এই এলাকায় তুমুল চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে দাবি, বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের নথি ছাড়াই ওই কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে। পরপর একাধিক নোটিশ পাঠানো হলেও তার কোনও জবাব পাওয়া যায়নি। তাই প্রশাসন কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটছে বলে জানা গিয়েছে। 30 জুন প্রথম নোটিশ পাঠানো হয়েছিল সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে। পরে 7 জুলাই দ্বিতীয় নোটিশও দেওয়া হয়। পাশাপাশি 15 জুলাই দক্ষিণ 24 পরগনার জেলা প্রশাসনের দফতরে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় নথি পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, কোনও নোটিশেরই উত্তর দেওয়া হয়নি এবং নির্ধারিত দিনে হাজিরা দেওয়া হয় নি।
এরপরই প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এদিন সকাল থেকে কার্যালয় চত্বরে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং প্রশাসনের আধিকারিকদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। গোটা এলাকা গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঘটনাস্থলে রয়েছেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পাশাপাশি দমকল বাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
2024 সালে লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন বিজেপির অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। তিনি একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "এটা অবৈধ এমপির অবৈধ এমপি কার্যালয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একজন অবৈধ সাংসদ। ছাপ্পা ভোটে জেতা সাংসদ। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে দেয়নি। এখানে একটা বেকারি ছিল। ওই বেকারিটি পুড়িয়ে রাতারাতি একটি চারতলা বিল্ডিং তৈরি করে, যার কোনও অনুমোদন ছিল না। ওই জমিটা কেনা হয় লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস-এর নামে। জমিটা ইডি বাজেয়াপ্ত করেছে। সেটা আজ প্রশাসনের তরফে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। এই অবৈধ বিল্ডিংটাকে আশ্রয় করে অপরাধজনক কাজকর্ম করতেন অভিষেক।"
প্রশাসনের দাবি, অভিষেকের কার্যালয়টি যে জমির উপর নির্মিত হয়েছে, সেই জমি 'লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস' নামে একটি সংস্থার নামে কেনা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট নথিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। তবে এই নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান, নির্মাণের বৈধ কাগজপত্র এবং অন্যান্য নথি জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের দাবি, পরপর দু'বার নোটিস পাঠিয়েও কোনও সাড়া না-পাওয়ায় আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই একাধিক বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসন অভিযান চালাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার কার্যালয়কে ঘিরেও প্রশাসনের এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।