কলকাতা, 18 জুলাই: তৃণমূলের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ঘিরে তদন্ত আরও জোরদার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি এবার অর্থপাচার ও আর্থিক অনিয়মের দিকটি খতিয়ে দেখতে নেমেছে এই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীদের দাবি, বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেনের প্রাথমিক তথ্য মিললেও, সেই টাকার উৎস কিংবা খরচের যথাযথ হিসেব এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলির কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর, বিভিন্ন সময়ে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হলেও তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নথি বা হিসেবপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণেই ব্যাঙ্কের লেনদেন সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য, অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট এবং প্রয়োজনীয় নথি খতিয়ে দেখতে চাইছে ইডি। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এই মামলায় নতুন করে আরও 12টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল পুলিশ। তদন্তের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে। অভিযোগ, ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের একাধিক তথ্য সামনে এসেছে। সেই সূত্র ধরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ঋতব্রত শিবিরের এক তৃণমূল বিধায়ক প্রথমে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রথমে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল। পরে তদন্তের পরিধি বাড়তেই আরও 12টি অ্যাকাউন্টে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রথম দফায় ফ্রিজ করা তিনটি অ্যাকাউন্টে প্রায় 440 কোটি টাকা জমা রয়েছে। যদিও সেই অ্যাকাউন্টগুলি নিয়ে ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে কাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, আপাতত ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে তৃণমূল। তবে লেনদেনের উপর নজরদারি চালানোর জন্য আদালত একজন স্পেশাল অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে ৷ তাঁর তত্ত্বাবধানেই ওই অ্যাকাউন্টগুলির আর্থিক লেনদেন হবে।