• ‘ভোর ৫টা নাগাদ অচেনা নম্বর থেকে ফোন...’, কী ভাবে মেয়ে দময়ন্তীকে খুঁজে বার করলেন বাবা?
    এই সময় | ১৮ জুলাই ২০২৬
  • অদ্ভুত ভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল মেয়ে দময়ন্তী সেন। শেষ বার হাওড়া স্টেশনে দেখা গিয়েছিল। তার পরেই উধাও! দু’দিন প্রবল উৎকণ্ঠায় কেটেছিল বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন এবং মা মৌমিতা রায় সেনের। পরে অবশ্য সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বছর পনেরোর কিশোরীর গতিবিধি জানতে পারে পুলিশ। সেই মতো পরিবারের লোকজনকে তা জানানোও হয়। কিন্তু মেয়ে যত ক্ষণ না ঘরে ফিরছে, দুশ্চিন্তা দূর হওয়ার কথা নয়। এই সবের মধ্যেই শনিবার ভোর ৫টা নাগাদ অচেনা একটি নম্বর থেকে ফোন পান ধ্রুবজ্যোতি। তার পরেই দময়ন্তীর হদিশ মেলে।

    শনিবার সকালে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর গঙ্গার ঘাট থেকে উদ্ধার করা হয় দময়ন্তীকে। বাবা ধ্রুবজ্যোতিই মেয়েকে খুঁজে পেয়ে বাড়ি ফিরিয়ে এনেছেন বলে জানিয়েছেন। তার পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে থানার তদন্তকারী অফিসারদের কাছেও নিয়ে যাওয়া হয় দময়ন্তীকে। সেই থানার সামনে দাঁড়িয়ে ধ্রবজ্যোতি জানান, ভোর ৫টা নাগাদ তাঁর কাছে একটি ফোন এসেছিল। ফোনের ওপারে থাকা সেই ব্যক্তিই তাঁকে দময়ন্তীর খোঁজ দিয়েছেন। ধ্রুবজ্যোতি বলেন, ‘ফোন করে উনি বললেন যে, উনি আমায় চেনেন। তার পরে বললেন, আমার মেয়েকে নাকি রামকৃষ্ণপুর ঘাটে দেখেছেন ওঁর স্ত্রী। তার পরে অন্য এক ব্যক্তির নম্বর থেকে ফোন করে স্বামীকে জানিয়েছেন। তার পরেই সেই ব্যক্তি আমায় ফোন করে শীঘ্র রামকৃষ্ণপুর ঘাটে যেতে বলেন।’

    ফোন পেয়ে ধ্রুবজ্যোতিও দেরি করেননি। সোজা চলে গিয়েছিলেন হাওড়া স্টেশনে। সেখানে কিছু ক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরে রামকৃষ্ণপুর ঘাটে যাওয়ার কথা ভাবেন। ধ্রুবজ্যোতি বলেন, ‘আমি ঘাটের দিকে যাচ্ছিলাম। কিন্তু ওই দিকে কতগুলো লোক শুয়ে রয়েছে। আমি প্রথমে ভাবলাম, আমার মেয়ে হয়তো এখানে আসবে না। তার পরে আবার কী মনে হলো, চলেই গেলাম ঘাটের দিকে। গিয়ে দেখি একেবারে শেষপ্রান্তে এক কোণায় বসে রয়েছে মেয়ে। আমি গিয়ে বললাম, কী রে মা! মেয়ে মুখ তুলে বলল, বলো। আমি বললাম, তুই এখানে কী করছিস? এই ভাবে চলে এলি কেন? তখন মেয়ে বলল, আমায় বাড়ি নিয়ে চলো।’

    পরিবার জানিয়েছে, খেলা, পড়াশোনা, নিজের অ্যাম্বিশনের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছিল না দময়ন্তী। কিশোরী মনের খেয়ালে সেই চাপ থেকেই নিজেকে ব্যর্থ-অসফল ভাবতে শুরু করেছিল সে। সেই কারণেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল সে। মেয়েকে খুঁজে পাওয়ার পরে পুলিশকে ধন্যবাদ জানান ধ্রুবজ্যোতি। বলেন, ‘এই গোটা সময়টা পুলিশ-প্রশাসন ভীষণ ভাবে সাহায্য করেছে। গতকাল সারা রাত গোয়েন্দা দপ্তর থেকে আমাকে একের পর এক সিসিটিভি ফুটেজের ক্লিপ পাঠিয়েছে পুলিশ। মেয়ে কখন কোথায় যাচ্ছে, পুলিশ সব নজরে রেখেছিল। এ সব ফুটেজ দেখার পর থেকেই আমি বুঝে যাই, পুলিশ কড়া নজরে রেখেছে।’ ঘটনাচক্রে, তার পরেই ভোরে অচেনা নম্বর থেকে ফোন পান ধ্রুবজ্যোতি।

  • Link to this news (এই সময়)