জানা গিয়েছে, ৩০ জুন তাঁর কার্যালয়ে একটি নোটিস দেওয়া হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসনের তরফে। ১৫ জুলাই তাঁকে জেলা প্রশাসনের দপ্তরে তলব করা হয়েছিল। ৭ জুলাই আরও একটি নোটিস পড়ে আমতলার কার্যালয়ে। কিন্তু নোটিসের জবাবে কোনও সাড়া দেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই শনিবার সকাল অ্যাকশন মোডে প্রশাসন। পুলিশ-বাহিনীতে ছেয়ে যায় অভিষেকের কার্যালয় চত্বর। গার্ডরেলে ঘিরে ফেলা হয় গোটা এলাকা। বেলা বাড়তেই সেখানে এন্ট্রি নেয় ৩টি বুলডোজার। শুরু হয় কার্যালয় ভাঙার কাজ। কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে পুলিশ। ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় স্থানীয়দের একাংশ।
অভিষেকের কার্যালয় ভাঙা শুরু হতেই বিজেপি কর্মীদের উচ্ছ্বাস শুরু হয় বিজেপি কর্মীদের। চলে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানও। তাঁদের অভিযোগ, “এই কার্যালয় ছিল শাহজাহান, জাহাঙ্গিরের মতো গুন্ডাদের ঘাঁটি। সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চলেছে এখানকার নির্দেশে। আজ বিপত্তারিণী পুজোতেই বিপদের খুঁটি উৎখাত হয়ে গেল।” স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অগ্নিশ্বর নস্কর জানান, “অবৈধ জায়গার উপর কার্যালয়টি নির্মাণ হয়ে গিয়েছিল। আদৌ হয়তো ওঁদের জায়গাই নয়। জবরদখল করে হয়তো কার্যালয় তৈরি হয়ে গেছে। তাই প্রশাসন আজকে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শনিবার সকাল থেকেই এলাকা পুলিশ-বাহিনীতে ছয়ালাপ। জানা গিয়েছে, সাত দিনের ব্যবধানে ওই কার্যালয়ে পরপর দু’টি নোটিস দিয়ে যান প্রশাসনিক আধিকারিকরা। প্রশাসনের নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে , বৈধ প্ল্যান ছাড়াই কার্যালয়টি নির্মাণ হয়ে গিয়েছে। কোনও বৈধ নথিও নেই এই বিল্ডিংয়ের। সেই সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদ করতেই অভিষকে জেলা প্রশাসনের দপ্তরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। নোটিসে এও উল্লেখ আছে যে, যে জমিতে সাংসদের কার্যালয়টি নির্মাণ হয়েছে, তা লিপস এন্ড বাউন্ডসের নামে কেনা হয়েছিল। সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রের জানা গিয়েছে, পরপর দু’বার নোটিসে সাড়া না দেওয়াতেই বড় পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন বিষ্ণুপুর পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও প্রশাসনিক কর্তারা। রয়েছে দমকল বাহিনীও।