শনিবার সকাল থেকেই দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার আমতলায় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বেআইনি অংশ ভাঙার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন৷ বুলডোজার নিয়ে এসে অভিষেকের অফিস ভাঙার কাজ শুরু হয়৷ অভিষেকের এই অফিসের বিরুদ্ধে এর পরই মুখ খুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ সামনে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ৷
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জিতে প্রথমবার ডায়মন্ড হারবার থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ স্থানীয়দের দাবি, সেই সময় আমতলার এই জায়গায় একটি বেকারির কারখানা ছিল৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিষেক সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার বছরখানেকের মধ্যেই রহস্যজনক ভাবে ওই বেকারির কারখানায় আগুন লাগে৷ অভিযোগ, এর পরেই ওই জমির দখল নেয় অভিষেকের সংস্থা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস৷ পুড়ে যাওয়া বেকারির কারখানা তুলে দিয়ে সেখানে গড়ে ওঠে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাসাদপম চারতলা কার্যালয়৷
অভিষেকের এই অফিসকে কেন্দ্র করে একই অভিযোগ তুলেছেন ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস৷ তিনি বলেন, এটা অবৈধ সাংসদের অবৈধ অফিস৷ অভিষেক ছাপ্পা ভোটে জেতা অবৈধ সাংসদ৷ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার যে কেড়ে নিয়েছে এটা তাঁর অফিস৷ এই অফিসের আড়ালেই অপরাধীদের নিয়ে রাজত্ব চালাতো অভিষেক৷ রাতারাতি একটা বেকারি পুড়িয়ে চারতলা ওই অবৈধ বহুতলটা তৈরি করে, যার কোনও অনুমতি ছিল না৷ জমিটা কেনা হয় লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস-এর নামে৷ সেই বেআইনি নির্মাণই আজকে ভাঙার প্রাথমিক কাজ শুরু করল প্রশাসন৷ মুখ্যমন্ত্রী, জেলাশাসক এবং প্রশাসনকে আমাদের এতদিনের দাবি পূরণের জন্য ধন্যবাদ৷ আর সবশেষে অভিষেককে গারদে পোড়া হবে৷
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার এই অফিসকে নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ তাঁদের অভিযোগ, অভিষেকের এই অফিসেই ঘাঁটি গেড়ে থাকত এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী এবং তোলাবাজরা৷ স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, এই অফিস থেকে শাহজাহান, জাহাঙ্গিরদের তৈরি করা হত৷ স্থানীয় বাসিন্দারা কোনও সমস্যার কথা অভিষেকের এই সাংসদ কার্যলয়ের ভিতরে ঢুকে জানাতে পারতেন না বলে অভিযোগ৷
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অভিষেক যখনই ওই অফিসে আসতেন তখন স্থানীয় বাসিন্দাদের হয়রানি আরও বাড়ত৷ অফিসের থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার আগে থেকে রাস্তায় অন্য যানবাহনের চলাচল বন্ধ করে দিত পুলিশ৷ ফলে হেঁটে যাতায়াত করতে হত মানুষকে৷ এলাকার দখল নিত কয়েক হাজার পুলিশকর্মী৷ দীর্ঘক্ষণ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে থাকত এলাকা৷