• শান্তিনিকেতনে পড়ুয়াদের সঙ্গে এবিভিপি-র সংঘর্ষ!
    আজকাল | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: শান্তিনিকেতনে ফের অশান্তির বাতাবরণ। সোনম ওয়াংচুকের অনশনকে সমর্থন করে বিশ্বভারতী চত্বরে আয়োজিত ২৪ ঘণ্টার প্রতীকী অনশন কর্মসূচিকে ঘিরে শনিবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে, অনশনরত ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ নাগরিক। অন্যদিকে, এবিভিপি সমর্থকদের মধ্যে বচসা থেকে ধস্তাধস্তি এবং মারধরের অভিযোগে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় শান্তিনিকেতন। ঘটনায় একাধিক ছাত্রছাত্রী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এবিভিপি সমর্থকদের দাবি, অনশনকারীরা সাধারণ ছাত্রছাত্রী নন এবং তাঁদের কর্মসূচির আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল।

    প্রসঙ্গত, শনিবার সকাল ১০টা থেকে শান্তিনিকেতনের হিন্দি ভবনের সামনে পরিবেশবিদ, শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন ও অনশনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার প্রতীকী অনশন শুরু করেন একদল ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ নাগরিক। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি এবং দিল্লিতে সোনম ওয়াংচুকের চলমান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। তাঁদের দাবি, এই আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা ছাড়াই রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা, পোস্টার ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানো হচ্ছিল।

    আন্দোলনকারী অনুরাগ নায়েক ও পৃথা নায়েক জানান, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতেই তাঁরা এই অনশনে সামিল হয়েছেন। পাশাপাশি আগামী ২০ জুলাই রতনপল্লী মাঠ থেকে বোলপুর আদালত পর্যন্ত একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলেরও পরিকল্পনা ছিল বলে জানান তাঁরা।

    কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকজন এবিভিপি সমর্থক  পৌঁছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে 'ভারত মাতা কি জয়' এবং 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান দিতে শুরু করেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বচসা শুরু হয়। এবিভিপি সমর্থক জয়মাল্য থান্ডারের দাবি, অনশনকারীরা সাধারণ ছাত্রছাত্রী নন, তাঁরা এসএফআই-সমর্থিত এবং নকশালপন্থী। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলনের নামে বিশ্বভারতীর পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে আন্দোলনকারীরা এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

    পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অনশনকারীদের অভিযোগ, তাঁদের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয় এবং কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলায় কয়েকজনের নাক, মুখ ও কপালে আঘাত লাগে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষ ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। মারধরের ঘটনা অস্বীকার করেছেন এবিভিপি সমর্থকরা।

    খবর পেয়ে দ্রুত শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ দুই পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    ঘটনার পর থেকে বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতন চত্বরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষাঙ্গনে এই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বহু প্রাক্তনী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দা। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
  • Link to this news (আজকাল)