• ক্যারাটেতে ব্ল্যাক বেল্ট, পারদর্শী রাশিয়ান ব্যালেতেও, সোনমের ‘অক্সিজেন’ কে এই গীতাঞ্জলি?
    প্রতিদিন | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • বর্তমানে গোটা দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু পরিবেশকর্মী তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। নিট প্রশ্ন ফাঁস, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ-সহ পাঁচ দাবিতে টানা ২১ দিন অনশনের পর শনিবার তাঁকে একপ্রকার জোর করে তুলে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছে দিল্লি পুলিশ। প্রত্যেকবারের মতো এই কঠিন সময়েও তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে পাশে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। বর্তমানে তিনিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অনেকের কাছে তিনিই সোনমের বেঁচে থাকার ‘অক্সিজেন’। ২০২৫ সালে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (ফরেন কনট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট বা এফসিআরএ) লঙ্ঘনের অভিযোগে যখন সোনমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেই ‘যুদ্ধে’ও তাঁর পাশে ছিলেন তাঁর স্ত্রী।

    তবে গীতাঞ্জলির পরিচয় শুধু সোনমের স্ত্রী নয়। তিনি নিজে একজন শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী। ওড়িশার বালেশ্বরে এক পাঞ্জাবি পরিবারে জন্ম গীতাঞ্জলির। ফকির মোহন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক হওয়ার পর ভুবনেশ্বরের জেভিয়ার ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট থেকে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে স্নাতকোত্তর করেন। কর্মজীবনের শুরুতে প্রায় ছয় বছর কর্পোরেট জগতে কাজ করেন তিনি। পরে সমাজ ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখতে সেই চাকরি ছেড়ে দেন। গীতাঞ্জলির বহুমুখী প্রতিভা অনেককেই অবাক করে। তিনি ক্যারাটেতে ব্ল্যাক বেল্ট। আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতায়ও সাফল্য পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, গীতাঞ্জলি একাধারে ওডিশি নৃত্যে এবং রাশিয়ান ব্যালেতেও পারদর্শী। 

    ২০১৭ সালে সোনমের সঙ্গে মিলে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অলটারনেটিভস, লাদাখ (হিয়াল)। পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য একটি বাস্তবমুখী ও বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা থেকে পার্বত্য অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন সমস্যাগুলি সমাধান করাই এই প্রতিষ্ঠানের কাজ। বর্তমানে গীতাঞ্জলি এই প্রতিষ্ঠানের সিইও এবং ডিন হিসাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদানের জন্য ২০২২ সালে কেন্দ্রের নীতি আয়োগের ‘উইমেন ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া’ সম্মানে ভূষিত হন গীতাঞ্জলি। এসবের পাশাপাশি আধ্যাত্মিকতার প্রতিও আগ্রহ রয়েছে তাঁর। গভীরভাবে হিন্দু ধর্মও চর্চা করেন গীতাঞ্জলি। জানা গিয়েছে, একটি শিক্ষা সম্মেলনে সোনমের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। এরপর ধীরে ধীরে প্রেম। তারপর সাত পাকে বাঁধা পড়েন দু’জন।

    শনিবার শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গীতাঞ্জলি বলেন, “সোনম এখনও অনশন করছেন। তিনি কেবল লবণ-মিশ্রিত জল পান করছেন, যা তিনি আগেও পান করছিলেন।” তবে তিনি অভিযোগ করেছেন হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হচ্ছে না। গীতাঞ্জলি বলেন, ” সোনমকে কেবল পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চালানো হচ্ছে। আমরা আসলে বাইরের ল্যাবরেটরি থেকে পরীক্ষাগুলি করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ, আমরা যেসব রিপোর্ট চেয়েছিলাম সেগুলি হাসপাতাল থেকে দেওয়া হচ্ছে না। তারা জানিয়েছে সোনমের পটাশিয়ামের মাত্রা ২.৯-এ নেমে এসেছে। এ সমস্ত তথ্য বিশ্বাসযোগ্য নয়। শুক্রবার তাঁর পটাশিয়ামের মাত্রা ছিল ৪.৩। এক দিনের ব্যবধানে তা কীভাবে এতটা নিচে নেমে এল! এটা অসম্ভব।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)