তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ জন লোকসভার সাংসদকে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-র সদস্য হিসেবে এখনও স্বীকৃতি দেননি স্পিকার ওম বিড়লা। তবে আগামী কাল রবিবার সংসদের বাদল অধিবেশনের আগে সর্বদল বৈঠকে ডাক পেলেন তাঁরা। লোকসভার সচিবালয় সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের জন্য অধিবেশন কক্ষে আলাদা বসার জায়গারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সর্বদল বৈঠকের ঠিক আগে শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূলত্যাগী লোকসভার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি NCPI-এর লোকসভার দলনেতাও। বাদল অধিবেশনের আগে মোদী ও সুদীপের এই সাক্ষাৎ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। এনডিএ শরিক হিসেবে বাদল অধিবেশনে বসার আলাদা জায়গা পাওয়ার পরে এ বার কি তবে স্বীকৃতি আদায়ের জন্যই মোদীর সঙ্গে বৈঠক করলেন সুদীপ? এই নিয়ে অবশ্য এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা।
তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে মিশে যাওয়ার জন্য লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন করেছেন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। পাশাপাশি তাঁরা NDA-কে সমর্থন করবেন বলেও জানিয়েছেন। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি স্পিকার। তবে স্বীকৃতি না মিললেও বাদল অধিবেশনের আগে সর্বদল বৈঠকে তাঁদের ডাকা আদতে জাতীয় স্তরে NCPI-কে মর্যাদা দেওয়ার প্রথম ধাপ বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা আগেই স্পিকারের কাছে আলাদা বসার আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই আবেদনও মেনে নেওয়া হয়েছে। অধিবেশন কক্ষে ২০ জন সাংসদকে আলাদা বসার জায়গা দেওয়া হচ্ছে বলে লোকসভার সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ তাঁরা তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে বসবেন না। এখন সংসদের অন্দরে তাঁদের NCPI সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন অনেকে।
এ দিন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে মোদীর সঙ্গে প্রায় ৫০ মিনিট বৈঠক করেন সুদীপ। তবে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা জানা যায়নি। বৈঠকের পরে সুদীপ জানিয়েছেন, দেশ ও পশ্চিমবঙ্গের উন্নতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন তাঁরা।
যদিও NCPI সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি না মেলায় তাঁরা এখনও খাতায়কলমে তৃণমূলেরই সাংসদ। কিন্তু তার পরেও সুদীপদের সর্বদল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোয় কেন্দ্রীয় সরকারকে তোপ দেগেছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। X হ্যান্ডলে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘অধ্যক্ষের নথিতে এখনও তাঁরা তৃণমূলের সাংসদ। তা হলে কেন্দ্রীয় সরকার কোন যুক্তিতে ওই ২০ জনকে এনসিপিআই-এর প্রতিনিধি হিসেবে সর্বদলীয় বৈঠকে ডাকল?’