• ‘সরকার দাবি মানুক বা না মানুক...’, ওয়াংচুকের অনশন নিয়ে মুখ খুললেন আন্না হাজারে
    এই সময় | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তরের অনশন মঞ্চ থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করেছে দিল্লি পুলিশ। তবে এখনও অনশন ভাঙেননি তিনি। চরম শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও ওরাল মেডিসিন, IV ফ্লুইড নিতে লাদাখের সমাজকর্মী। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে সোনমের সঙ্গে আলোচনায় বসার আবেদন জানালেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে। শনিবার পিটিআইকে তিনি বলেন, ‘আলোচনায় বসতে তো কোনও সমস্যা থাকার কথা নয়।’

    নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্কে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলে গত ২০ জুন থেকে যন্তরমন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি। আন্দোলনের শুরু থেকেই তাদের পাশে রয়েছেন সোনম। পরে তিনি ঘোষণা করেন, ২৭ জুনের মধ্যে কেন্দ্র সরকার সন্তোষজনক জবাব না-দিলে তিনি অনশনে বসবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও কেন্দ্রের তরফে কোনও সাড়া না মেলায় ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন তিনি।

    ক্রমশ শরীর খারাপ হতে থাকে সোনমের। শেষে দিল্লি হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, প্রয়োজনে সব রকমের চিকিৎসা দিতে হবে সোনমকে। এর পরেই এ দিন অনশনের ২১ তম দিনে যন্তর মন্তরের অনশন মঞ্চ থেকে তুলে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় সোনমকে। তবে এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছেন সোনমের সমর্থকেরা। বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে ককরোচ জনতা পার্টিও। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার ঘুরপথে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে।

    এর পরেই সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্না হাজারে বলেন, ‘তাঁর ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া উচিত হচ্ছে না সরকারের। দাবি মানবেন কি মানবেন না, সেটা পরের কথা। কিন্তু আলোচনায় বসতে সমস্যা কোথায়?’ উল্লেখ্য, ২০১১-য় দুর্নীতিবিরোধী লোকপাল আইনের দাবিতে আন্নার আন্দোলন সারা দেশে তুমুল শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই পরে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে আম আদমি পার্টি।

    এ দিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও অনশন ভাঙেননি সোনম। চিকিৎসকের পরামর্শ সত্ত্বেও তিনি ওষুধ নিতে রাজি হননি বলে সফদরজং হাসপাতালের স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়েছে। ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোও জানিয়েছেন, হাসপাতালেও তাঁর স্বামী অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। সোমবার সংসদ অভিমুখে যে মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে, তা-ও নির্ধারিত সময়েই হবে। গীতাঞ্জলি বলেন, ‘সোনম যদি মিছিলে যোগ দিতে না পারেন, তা হলে আমি তাঁর হয়ে নেতৃত্ব দেব। তাঁকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। সোমবারের কর্মসূচি আগের মতোই হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)