টানা জ্বর আর কাশি। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন, সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ বোধহয়। কিন্তু এক সপ্তাহ কেটে যাওয়ার পরেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তখনই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ১১ বছরের ওই শিশুর শরীরে ধরা পড়েছে কোভিড ১৯-এর সংক্রমণ।
কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক দিন ধরেই জ্বরে ভুগছিল শিশুটি। সঙ্গে ছিল প্রবল কাশি। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, রাতে কাশির দমকে ঘুমোতে পর্যন্ত পারছিল না। শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকায় তাকে পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন, মাঝে মধ্যেই শিশুটির রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ওঠানামা করছে। কোভিড উপসর্গের সঙ্গে মিল থাকায় আরটিপিসিআর পরীক্ষা করানো হয়। রিপোর্টে কোভিড সংক্রমণ ধরা পড়ে। শিশুটির নিউমোনিয়াও রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। তাকে বর্তমানে পেডিয়াট্রিক ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছে।
পিয়ারলেস হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান ডা. সহেলী দাশগুপ্ত বলেন, ‘প্রচণ্ড কাশছিল। অক্সিজেনের মাত্রাও ওঠানামা করছিল। আরটিপিসিআর রিপোর্টে কোভিড সংক্রমণ ধরা পড়েছে।’
পরে শিশুটির বুকের এক্স-রে করা হলে ফুসফুসে নিউমোনিয়ার প্যাচ দেখা যায়। আপাতত গভীর পর্যবেক্ষণে রেখে তার চিকিৎসা চলছে। শিশুর শ্বাসপ্রশ্বাস, অক্সিজেনের ওঠানামা এবং সংক্রমণের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসকরা।
বর্ষার সময়ে দীর্ঘদিনের জ্বর, একটানা কাশি, শ্বাসকষ্ট বা অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার মতো উপসর্গকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয় বলেই মনে করেন চিকিৎসকরা। প্রয়োজনে কোভিড-সহ শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের পরীক্ষা করানো জরুরি। না হলে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।