• স্থানীয়দের চাপে তড়িঘড়ি গেট তুলতে গিয়ে মারাত্মক ভুল গেটম্যানের? মুর্শিদাবাদ কাণ্ডে নয়া মোড়
    News18 বাংলা | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • বহরমপুর থানার অন্তর্গত কর্ণসুবর্ণ রেলগেটে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পুলকার দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর প্রকাশ্যে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ট্রেন যাওয়ার জন্য দীর্ঘক্ষণ ট্রেন বন্ধ থাকার কারণেই কি পথচারী এবং গাড়ি চালকদের চাপেই তড়িঘড়ি গেট তুলে দিয়েছিলেন গেটম্যান?

    অভিযোগ, নন-ইন্টারলকিং রেল গেটে ভুলবশত গেট তুলে দেওয়ার জেরেই প্রাণ গিয়েছে এক সাইকেল আরোহী সহ ৪ ছাত্রছাত্রীর। তদন্তকারীদের অনুমান, গেটটি ইন্টারলকিং হলে স্টেশন মাস্টারের কাছে গেটটি খোলা ও বন্ধ করার ক্ষমতা থাকতো।সেক্ষেত্রে এত বড় দূর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।

    পুলিশ ও রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৬:৪৫ নাগাদ আপ ‘ থ্রু ‘ নবদ্বীপ-বালুরঘাট এক্সপ্রেস কর্ণসুবর্ণ স্টেশন পার করার পরই দায়িত্বপ্রাপ্ত গেটম্যান ভুলবশত রেলগেট তুলে দেন। সেই সময় ওই পুলকার  লাইন পার হচ্ছিল। পুলকারটি লাইনে ঢুকে পড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই উল্টো দিক থেকে তীব্র গতিতে চলে আসে ডাউন কাটোয়া-নিমতিতা লোকাল ট্রেন।  নিজের ভুল বুঝতে পেরে গেটম্যান তড়িঘড়ি উল্টো দিকের গেটও নামিয়ে দেন। ফলে মাঝখানে আটকে পড়া পুলকার সামনে বা পিছনে কোনও দিকেই যাওয়ার সুযোগ পায়নি।

    এরপরই লোকাল ট্রেনটি সজোরে ধাক্কা মারে পুলকারটিকে। ধাক্কার অভিঘাতে দুমড়ে-মুচড়ে যায় গাড়িটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়  ৩ জন স্কুল ছাত্রের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাকি ছাত্র ছাত্রী, পুলকারে ড্রাইভার ও সাইকেল আরোহীকে কর্ণসুবর্ণ  প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং পরে  মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে আহত ওই সাইকেল আরোহী ও আরও ১ ছাত্রের মৃত্যু হয়। ফলে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

    তদন্তকারীদের একটি সূত্রের দাবি, ‘ থ্রু ‘ ট্রেনটি যাওয়ার কারণে ওই রেল গেটটি দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ছিল। এই কারণে পরবর্তী ট্রেন আসার আগে বেশ কিছু মানুষ ওই গেটম্যানকে রেল গেটটি খোলার জন্য ‘ চাপ ‘ দিয়েছিলেন। যদিও দূর্ঘটনার পর তাঁদের আর দেখা মেলেনি। যদিও রেল কর্তৃপক্ষের দাবি কোনও ‘ চাপের ‘ কারণে যদি ওই গেটম্যান সেটি খুলে থাকেন, তিনি রেলের আইন ভেঙে সেটি করেছিলেন। কিছুদিন আগেই কর্ণসুবর্ণ রেল গেটে একটি টোটো ধাক্কা মারায়  তার ক্ষতি হয়। এই কারণে রেল কর্তৃপক্ষ টোটো চালককে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার কিছু বাসিন্দাদের মধ্যে রেল কর্মচারীদের উপরে ক্ষোভও ছিল।

    তবে অভিযুক্ত গেট ম্যান অনুপ কর্মকার অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷ উল্টে কর্ণসুবর্ণের স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধেই গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি৷ ওই গেটম্যানের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়লে সেই খবর তাঁকে দেওয়ার কথা স্টেশন মাস্টারের৷ কিন্তু গতকাল আপ ট্রেনের খবর দিলেও ডাউন লাইনে কোনও ট্রেন আসার খবর তাঁকে স্টেশন মাস্টার দেননি৷ সেই কারণেই গেট তুলেছিলেন তিনি৷
  • Link to this news (News18 বাংলা)