• ক্যারাটেতে ব্ল্যাক বেল্ট, রাশিয়ান ব্যালেতেও সমান দক্ষ, সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলিকে চেনেন?
    এই সময় | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায় না তাঁকে। তবে সোনম ওয়াংচুক অনশন শুরুর করার পর থেকে কার্যত ছায়ার মতোই পাশে ছিলেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। শনিবার সোনমকে যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে তিনিই হয়ে উঠেছেন আন্দোলনের অন্যতম মুখ। দার্ঢ্যের সঙ্গে বলে দিয়েছেন, ‘সোনম সংসদ অভিযানে যেতে না পারলে, আমিই মিছিলের নেতৃত্ব দেব।’

    গীতাঞ্জলি শুধু সোনমের স্ত্রী নন, তাঁর আরও অনেক পরিচয় রয়েছে। তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী এবং উদ্যোক্তা। লাদাখের হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অলটারনেটিভস (HIAL)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতাও। সোনমের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাহাড়ি অঞ্চলে বাস্তবমুখী ও বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ করছেন তিনি। যদিও যদিও গত বছর বিদেশি অনুদান সংক্রান্ত নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

    ওডিশার বালেশ্বরের এক পাঞ্জাবি পরিবারে জন্ম গীতাঞ্জলির। ফকির মোহন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক হওয়ার পর ভুবনেশ্বরের জেভিয়ার্স ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট থেকে এমবিএ করেন। তার পরে যোগ দেন কর্পোরেট দুনিয়ায়। দীর্ঘদিন ডেনমার্কে ছিলেন। সেখানেই কেটেছে কর্মজীবনের অধিকাংশ সময়।

    ভারতে ফেরার পরে শুরু হয় উদ্যোক্তার জীবন। প্রতিষ্ঠা করেন পুষাণ, সাংহাই পাওয়ার প্রজেক্টস লিমিটেড এবং প্রকাশনা সংস্থা হেলিওস বুকস। ২০১৭ সালে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে মিলে গড়ে তোলেন HIAL।

    একটি শিক্ষা সম্মেলনে প্রথম দেখা হয়েছিল তাঁদের। সেখানে আলাপ, পরে প্রেম। ২০২৫-এ একটি সাক্ষাৎকারে গীতাঞ্জলি নিজেই জানিয়েছিলেন সেই কথা। তিনি বলেছিলেন, ‘মনে হচ্ছিল আমরা যেন একে অপরের বাক্য শেষ করছি। শিক্ষা ও জীবন সম্পর্কে আমাদের ভাবনায় আশ্চর্য রকমের মিল ছিল।’

    লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, গীতাঞ্জলি ক্যারাটেতে ব্ল্যাক বেল্ট। ওডিশি এবং রাশিয়ান ব্যালে নৃত্যে পারদর্শী। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চিভনিং স্কলার। ভারত সরকারের Women Transforming India Award-ও পেয়েছেন। বায়োতে নিজেকে ‘আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানী’ বলেও উল্লেখ করেছেন গীতাঞ্জলি। তবে এত সাফল্যের পরেও জনসমক্ষে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করেননি কখনও।

    গীতাঞ্জলি আংমো সোনমের দ্বিতীয় স্ত্রী। এর আগে রেবেকা নরম্যান নামে এক আমেরিকানের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন তিনি। পরে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

    গত বছর লাদাখে আন্দোলনের সময়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (NSA) প্রায় ১৭০ দিন জেলে ছিলেন সোনম ওয়াংচুক। সেই সময় স্বামীর মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন গীতাঞ্জলি। তখনই প্রথম জনসমক্ষে আসেন। রাষ্ট্রপতির কাছেও দরবার করেন। যোধপুর জেলে সপ্তাহে দু’বার স্বামীর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পেয়েছিলেন। এক ঘণ্টার সাক্ষাতের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হত তাঁকে।

    ওয়াংচুক মুক্তি পাওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, ‘গত পাঁচ মাস ধরে সপ্তাহে দু’বার মাত্র ৬০ মিনিটের সাক্ষাতের জন্য যে লড়াই করেছি, আজ তার অবসান হলো।’

    গত ২৮ জুন থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশনে বসেছেন সোনম ওয়াংচুক। শুরুতে আন্দোলনের মঞ্চে দেখা যায়নি গীতাঞ্জলিকে। তবে সংবাদপত্রে কলাম লিখেছেন। টিভি বিতর্কে যোগ দিয়েছেন। নেপথ্যে থেকে জনমত গড়ে তোলার কাজ করে গিয়েছেন নিঃশব্দে।

    কিন্তু অনশনের ২১তম দিনে ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে সফদরজং হাসপাতালে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর তিনিই হয়ে উঠেছেন আন্দোলনের মুখ। তাঁর অভিযোগ, ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও রাজধানীর পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শেই এই সিদ্ধান্ত। ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। ওয়াংচুক শারীরিক কারণে অংশ নিতে না পারলে, তিনি নিজেই সেই মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন বলে ঘোষণা করেছেন গীতাঞ্জলি।

  • Link to this news (এই সময়)