• বারুইপুরের পতিত জমিতে সোনা ফলাতে হবে কৃষক নিয়োগ, বিজ্ঞপ্তি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের
    এই সময় | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • জয় সাহা

    রামপ্রসাদের গানের কথায় আছে, ‘এমন মানবজমিন রইল পতিত, আবাদ করলে ফলত সোনা!’ এই গানের রেষ ধরেই যেন পতিত জমিতে সোনা ফলাতে চাইছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। সেই সোনা ফলানোর কারিগর ৫০ জন কৃষককে নিয়োগ করতে ইতিমধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ বিঘার বেশি বহু–ফসলি জমিতে এই কৃষকরা চাষ করবেন! বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রুসা ২.০’ প্রকল্পের আওতায় বারুইপুর কৃষি পরীক্ষণ খামারের জন্য এই কৃষকদের নিয়োগ করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা ২০ জুলাই বিকেল ৪টের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এই পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের স্বীকৃত কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত অষ্টম শ্রেণি পাশ হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকাও বাধ্যতামূলক। কৃষিক্ষেত্র, কৃষি খামার বা কৃষি-সংক্রান্ত কাজে ন্যূনতম ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে তবেই আবেদন করা যাবে। আবেদনকারী আগে যদি কোনও আধিকারিক, বিজ্ঞানী বা ফার্ম সুপারিনটেনডেন্টের অধীনে কাজ করে থাকেন, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া অভিজ্ঞতার শংসাপত্র জমা দিতে হবে। পারিশ্রমিক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দৈনিক মজুরি দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। এই মজুরির হার দৈনিক ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা। নির্বাচিত প্রার্থীদের জমি তৈরি, বীজ বোনা, চারা রোপণ, সেচ, ফসল পরিচর্যা ও সংগ্রহ এবং পরীক্ষামূলক প্লট ও নার্সারির রক্ষণাবেক্ষণের মতো বিভিন্ন কৃষি-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবাশিস দাস জানিয়েছেন, কৃষি বিভাগের অধীনে থাকা বারুইপুরের এই জমিতে বহু আগে চাষ হতো। বেশ কয়েক বছর ধরে সেই কাজ বন্ধ। জমিতে গজিয়ে উঠেছে আগাছার জঙ্গল। সেই জমি পাহারা দিতেই প্রচুর খরচ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের। সেখানেই ফের চাষ হবে। সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে ফলবে ধান, ডাল, শাকসব্জি। ওই জমিতেই রয়েছে অনেক আম-জাম-কাঠাল গাছ। সেই ফলও যেমন বাজারে বেচা হবে, তেমনই তৈরি করা হবে চারাগাছ। অনেকগুলি পুকুরও রয়েছে সেখানে। কোনও রকম কেমিক্যাল ছাড়াই সেই সব পুকুরে চাষ হবে মাছের। চারা, ফসল, মাছ বেচে বছরে অন্তত ৭-৮ লক্ষ টাকা তহবিলে আসতে পারে—এমনটাই ধারণা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। দেবাশিসের কথায়, ‘এই প্রকল্পে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাভ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, তেমনই এলাকার অনেক প্রান্তিক কৃষক পরিবারের হাতে কাজ তুলে দিয়ে আমরা তাঁদের সাহায্যও করতে পারব।’ এই জমিতে ফুল চাষেরও পরিকল্পনা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের। এখন অনেকই রাসায়নিক মুক্ত অর্গানিক ফার্মিংয়ে উৎপন্ন চাল, ডাল, শাক-সব্জি পছন্দ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, কর্মীদের অনেকেই আগ্রহী বারুইপুরের ওই জমি থেকে অর্গানিক ফসল কিনতে। বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, জমা পড়া আবেদনপত্র ও নথিপত্র যাচাইয়ের পর যোগ্য প্রার্থীদের সরাসরি সাক্ষাৎকার অথবা দক্ষতা পরীক্ষার মাধ্যমে বেছে নেওয়া হবে। অসম্পূর্ণ বা নির্দিষ্ট সময়ের পরে আসা আবেদনপত্র সরাসরি বাতিল গণ্য হবে। এই কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকবেন কৃষি বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষকরা।

  • Link to this news (এই সময়)