• অতঃকিম, বিজেপির কেউ ছোড়েননি ডিম, বলছে পদ্ম শিবিরের নিজস্ব সমীক্ষা
    এই সময় | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: বিজেপির কেউ ডিমদোষে দুষ্ট নন। ঘোষণা করে দিল দল।

    গত ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে তৃণমূলের অনেকের উপরেই ডিম থেরাপি প্রয়োগ হয়েছে। কি‍ন্তু বিজেপির কারও আস্তিন থেকেই ‘ডিম্বাস্ত্র’ খুঁজে পায়নি দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি। তৃণমূূলের পার্টি অফিস দখল, জোর করে শ্রমিক ইউনিয়ন দখলের মতো নানা অপরাধে গত দু’মাসে বিজেপির শতাধিক নেতা–কর্মীকে শোকজ করা হলেও ডিম ছোড়ার অপরাধে পদ্ম শিবিরের একজনকেও শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি। অতঃকিম, বিজেপির কেউ ছোড়েননি ডিম!

    বাংলায় রাজনৈতিক পালা বদলের পর থেকেই জেলায় জেলায় শুরু হয়ে গিয়েছে ডিম–হানা। গত দু’মাসে তৃণমূলের বহু নেতা–কর্মীর উপর এই অস্ত্র প্রয়োগ হয়েছে। এমনকী, পুলিশের সামনে তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে। বাং‍লায় আচমকা চালু হওয়া এই ডিম–সংস্কৃতিকে সমর্থন করছেন না রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। প্রকাশ্যেই রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘এটা কোনও দলের কর্মসূচি হতে পারে না যে, একটা মানুষকে দেখে আমি পচা ডিম ছুড়ে দেবো। কিন্তু ছোড়া হচ্ছে।’ তাঁর সাফ কথা, ‘এটা পশ্চিমবঙ্গ নয়, এটা আমার চেনা জগৎ নয়। এর বাইরে সকলকে বের করে আনতে হবে।’

    শুধু শমীকই নন, ডিম–সংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করতে দেখা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও। সম্প্রতি নিউটাউনে দলীয় বিধায়কদের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে এ বিষয়ে মুখ খুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ডিম ছোড়া বন্ধের আর্জি জানিয়ে ওই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, ‘বাজেটে ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি এবং বছরে এক লক্ষ চাকরির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেটাই তৃণমূলের জন্য সেরা জবাব। অকারণে ডিম ছোড়া সাধারণ মানুষ একেবারেই পছন্দ করছে না।’

    ‘ডিম্বাস্ত্র’ ইস্য‍ুতে শুভেন্দু–শমীকের কড়া বার্তার পরে অনেকের মনে হয়েছিল, এ বার তৃণমূলের মাথায় ডিম ফাটানোর অভিযোগে বিজেপির অনেকের উপরেই শাস্তির খাঁড়া নামতে চলেছে। কিন্তু ঘটনা হলো, বঙ্গ–বিজেপির একজনকেও ডিম অস্ত্রে শান দেওয়ার জন্য দলে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়নি। কারণ, ডিম–পর্ব বিশ্লেষণ করে বিজেপির ব্যাখ্যা, তৃণমূলের উপর ডিম ছুড়েছে সাধারণ জনতা, বিজেপি নেতা–কর্মীরা নন। দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির প্রধান প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের দলের কেউ ডিম ছোড়েননি। চার ঘণ্টায় বিজেপি হয়েছেন, এমন কেউ ছুড়তে পারেন। বিজেপির কেউ ডিম ছুড়ছে, এমন ছবিও অামাদের কেউ দেখাতে পারেনি। ফলে পার্টির কারও বিরুদ্ধে যদি ডিম ছোড়ার অভিযোগই না ওঠে, তা হলে শাস্তি দেওয়া কী ভাবে সম্ভব!’

    রাজ্য বিজেপির এক বর্ষীয়ান নেতার কথায়, ‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়েছিল। তারই প্রতিফল দেখা গিয়েছে ডিম ছোড়ার ঘটনাগুলিতে। কতখানি ক্ষোভ থাকলে কেউ দোকান থেকে ডিম কিনে কারও উপর ছুড়তে পারে! বিজেপির কোনও কর্মী যদি ডিম ছুড়ে থাকেন, তা হলে বুঝতে হবে তিনি সাধারণ জনতা হিসেবেই ছুড়েছেন। কারণ, ডিম ছোড়া বিজেপির কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়।’ যদিও কালীঘাট তৃণমূলের মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘আমাকে যে ডিম ছুড়েছিল সে তো ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানও দিয়েছিল। সব জায়গাতেই তাই হচ্ছে তবুও বিজেপি নিজেদের লোককে খুঁজে পাচ্ছে না?’

  • Link to this news (এই সময়)