সোমনাথ মণ্ডল
দিব্যি স্টাইলিশ। অফ–রোডিং এবং অ্যাডভেঞ্চার বাইকারদের খুব পছন্দের। স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি থেকে শুরু করে ফিচারের শেষ নেই। নানা প্রযুক্তিতে ঠাসা এমন ই–বাইক এ বার রাজপথে নামাল কলকাতা পুলিশ। লালবাজারের ঐতিহ্যবাহী ‘লাল বুলেট’–কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বাহিনীর এই নতুন সদস্য। তার অন্যতম কারণ, বাইকের মাইলেজ। মাত্র ২৭ পয়সায় এক কিলোমিটার যেতে পারে। সেখানে ওই একই পথ অতিক্রম করতে বুলেটে খরচ কমবেশি ৪ টাকা!
সাদা পোশাক, সাদা হেলমেট আর ‘গর্জন’ তোলা লাল বুলেট–– কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের এমন ছবি দেখতেই অভ্যস্ত শহরবাসী। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু হওয়া কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের সেই ঐতিহ্য আজও শহরের গর্ব বলেই মনে করেন পুলিশকর্মীদের একাংশ। ভারতীয় ক্রিকেট টিমের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিও কলকাতায় এসে লাল বুলেটে মজেছিলেন। চালিয়েও দেখেছিলেন। তবে এখন পুলিশ–প্রশাসনের কাছে ‘ঐতিহ্য’ বজায় রাখার থেকেও জ্বালানি খরচে লাগাম টেনে পরিবেশরক্ষাই সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্যেই পথে নেমেছে কলকাতা পুলিশের ই–বাইক। বছর দশেক আগে ‘হার্লে ডেভিডসন’ কিনেও এক বার চমক দিয়েছিল লালবাজার।
সারা বছরই কোথাও না কোথাও এবড়ো–খেবড়ো থাকে রাস্তা। উন্নতপ্রযুক্তির ‘অফ–রোডিং’ ই–বাইক যদি সেই সব রাস্তায় খাপ খাওয়াতে পারে, তা হলে ধীরে ধীরে সার্জেন্টদের হাতে যানশাসনে তুলে দেওয়া হতে পারে এমনই দু’চাকা। বাতাসে কার্বন নির্গমণ কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পুলিশিং পরিকাঠামো গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য বলে দাবি লালবাজার। এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, ‘পাইলট প্রকল্প। যার মূল উদ্দেশ্য জ্বালানির খরচ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব পুলিশিংয়ে উৎসাহ দেওয়া।’
ই-বাইক ব্যবহারে বায়ুদূষণের পাশাপাশি শব্দদূষণেও লাগাম টানা যাবে। রক্ষণাবেক্ষণের খরচও বুলেটের তুলনায় অনেকটাই কম। সাদা-কালো রঙের অ্যাডভেঞ্চার-স্টাইলের ডিজাইন হলেও এই বাইকগুলিকে বিশেষ ভাবে সাজিয়েছে কলকাতা পুলিশ। পিছনে বড় ‘টপ বক্স’ (লাগেজ রাখার জন্যে)–এর পাশাপাশি সামনে পুলিশের কাজের জন্যে হুটার এবং নীলবাতি লাগানো। আধুনিক ফিচারের মধ্যে রয়েছে স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি নেভিগেশন, একাধিক রাইডিং মোড। খরচা কেমন হতে পারে, তারও ধারণা পেতে চাইছেন পুলিশ–আধিকারিকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এক চার্জে ১৬৫ কিমি রেঞ্জ দিতে পারে। এই ধরনের আধুনিক বাইকে (ব্যাটারির ক্ষমতা প্রায় ৪ কেডব্লিউএইচ) ফুল চার্জ দিতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা খরচ (বিদ্যুৎ খরচ গড়ে ইউনিট প্রতি ৭ থেকে ১০ টাকা ধরে)। তাতে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে খরচ মাত্রই ২৭ পয়সা! অন্য দিকে, বুলেট চালাতে প্রতি কিলোমিটারে সাড়ে তিন থেকে চার টাকা খরচ। তেলের দাম বাড়লে খরচ আরও বাড়বে। কলকাতার ট্র্যাফিক পুলিশের কর্মীরা প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার বাইক চালান। সেই অর্থে ই–বাইক হাতে এলে খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যেতে পারে। যদিও ই–বাইক শেষ পর্যন্ত বুলেটের বিকল্প হবে কি না, তার জন্যে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞ ট্র্যাফিক সার্জেন্টরা।