সকাল থেকেই তিলোত্তমায় দুর্যোগ, ভাসবে দক্ষিণের কোন কোন জেলা? উত্তরে রেড অ্যালার্ট
প্রতিদিন | ১৯ জুলাই ২০২৬
রবিবার, ঠিক যেন পারফেক্ট উইকএন্ড! ভোর থেকেই কলকাতার আকাশে দুর্যোগের কালো মেঘ। আকাশ ভেঙে মুষলধারে বৃষ্টি নেমেছে শহরে। যার জেরে ইতিমধ্যেই কলকাতার একাধিক রাস্তা জলমগ্ন। যারা বাড়িতে আছেন, ছুটির সকালে বৃষ্টির মেজাজ উপভোগ করতে পারলেও, যারা সকালে রাস্তায় বেরিয়েছেন, তুমুল বৃষ্টিতে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শ্রাবণের শুরুতে আপাতত আবহাওয়া বদলের ইঙ্গিত নেই। বরং বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে বলে জানা গিয়েছে।
রবিবার দিনভরই কলকাতায় জারি থাকবে বৃষ্টির দাপট। চলতি সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগের লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা মাঝারি বৃষ্টি চলবে। সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে বইতে পারে দমকা হাওয়া। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকবে। অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষিপ্ত দু’এক পশলা হালকা বৃষ্টি হতে পারে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে। মঙ্গলবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও নদীয়াতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সর্তকতা জারি করা হয়েছে। কলকাতার জন্য আলাদা করে কোনও সতর্কতা না থাকলেও বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরের বহু জেলায় ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলাতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। দার্জিলিং কোচবিহার ও কালিম্পংয়ে অতিভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা। মালদহ ও দুই দিনাজপুরেও বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে আগামী কয়েকদিন। প্রবল বৃষ্টির প্রভাবে উত্তরেলর নদীর জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইতে পারে। নীচু এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কাও বাদ দেওয়া যাচ্ছে না। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পার্বত্য এলাকায় ভূমিধসের সম্ভাবনাও থাকতে পারে। আবহাওয়ার আপডেট ফলো করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে পর্যটকদের।
গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম দিকে নিম্নচাপটি দুর্বল হয়েছে। তবে তার সঙ্গে ঘূর্ণাবর্তও সক্রিয় রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা ৪.৫ কিলোমিটার। এ ছাড়া, বর্ষার অক্ষরেখা পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ হয়ে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণপ্রান্ত হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। সাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করছে। উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি বৃষ্টির দাপট থাকবে দক্ষিণবঙ্গেও।