মশার বংশ হবে ধ্বংস! ‘বিশ্বত্রাস’কে সমূলে বিনাশে নয়া ব্যাকটেরিয়ার আবিষ্কার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের
প্রতিদিন | ১৯ জুলাই ২০২৬
মশার কামড়ে প্রাণ অতিষ্ঠ হয়ে যায়। আবার মশাবাহিত রোগে প্রতিবছর বহু মানুষের মৃত্যু। ফাইলেরিয়ার মতো রোগে বিপর্যয় নামে মানবজীবনে। এবার সেই মশা নিধনে নতুন ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের। যে ব্যাকটেরিয়া মশার লার্ভা নিধনে সক্ষম। বিশেষত ফাইলেরিয়া বহনকারী কিউলেক্স কুইনকোফেসিয়াটাস মশার। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তথা প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক গৌতম চন্দ্র ও তাঁর দুই ছাত্রছাত্রী নন্দিতা চৌধুরি ও ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য গবেষণায় নয়া ব্যাকটেরিয়া অ্যালকালিজেনেস ফেকালিস (বিউএমসিএন০১) ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পেয়েছেন।
তাঁদের এই সাফল্য বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মুকুটে নয়া পালক যোগ করেছে। ইতিমধ্যে এই গবেষণা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যাপক গৌতম চন্দ্র মশা বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। তিনি ও তাঁর অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মশার বিষয়ে অনেক গবেষণা করেছেন। অনেক আবিষ্কারও করেছেন। এবার নয়া ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পেয়েছেন তাঁরা। গৌতমবাবু জানান, বর্ধমানের একটি নির্মাণ স্থলের ‘রেনওয়াটার পিট’ থেকে স্বাভাবিকভাবে মৃত একটি মশার লার্ভা সংগ্রহ করেন তাঁরা। ওই ব্যাকটেরিয়াকে আইসোলেট বা আলাদা করতে পেরেছেন তাঁরা। তারপর সেটিকে গবেষণাগারে নিয়ে তার থেকে ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার বা সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
এরপর এই ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন মশার লার্ভার উপর পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো হয়। তাতে দেখা গিয়েছে এই ব্যাকটেরিয়া কাউলেক্স মশার লার্ভা মারতে সক্ষম হয়েছে। ল্যাবরেটরি এবং বাইরে মশার লার্ভার উপর অ্যালকালিজেনেস ফেকালিস ব্যাকটেরিয়া প্রয়োগে তাদের নিধন সম্ভব হয়েছে। এই ব্যাকটেরিয়ায় থাকা প্রোটিন লার্ভার উপর টক্সিক বা বিষের মতো কাজ করে। গৌতমবাবু বলেন, ”এই ব্যাকটেরিয়ায় পাউডার তৈরি করে মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা যেতে পারে। কেউ চাইলে তা বাণিজ্যিকভাবেও করতে পারেন।” আর এইভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ করা হলে পুরোটাই জৈব পদ্ধতিতে হবে। কারণ এর মধ্যে কোনও রাসায়নিক কিছু থাকছে না। ফলে পরিবেশের কোনও ক্ষতির আশঙ্কাও নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আবিষ্কার রাজ্যে মশা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষত প্রতি বছরই মশা নিয়ন্ত্রণে বিপুল অর্থ খরচ হয় সরকারের। জৈব পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রণে এই ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করলে উপকৃত হবেন সকলে। শুধু তাই নয়, এখনও পর্যন্ত পৃথিবীতে সর্বাধিক মৃত্যুর কারণ মশা। রীতিমতো হয়ে উঠেছে ‘ত্রাস’! এই পরিস্থিতিতে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আবিষ্কার যুগান্তকারী।