• অবৈধবাসীদের রাজ্যছাড়া করতে নয়া বিভাগ কলকাতা পুলিশের, কীভাবে কাজ করবে এসটিএফ ডি?
    প্রতিদিন | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • অবৈধভাবে কলকাতায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নতুন উদ্যোগ কলকাতা পুলিশের। ভিসার মেয়াদ ফুরানোর পরও বিদেশি নাগরিকরা থাকছেন, তাঁদের শনাক্তকরণ, যাচাই এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চালু হচ্ছে নতুন বিভাগ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ডিপোর্টেশন বা এসটিএফ ডি।

    লালবাজার জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে থেকে বেশ কয়েকজন বিদেশে নাগরিক ধরা পড়েছেন, যাঁদের ভিসার মেয়াদ ফুরিয়েছে বহু আগে। তবু অবৈধভাবে জাল পরিচয়পত্র তৈরি করে রয়েছেন এই দেশে। এমনকি ভারতীয় সেজে চাকরি বা ব্যবসা করছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও আফগান নাগরিকদের ক্ষেত্রেই এই প্রবণতা বেশি দেখা গিয়েছে। এই অবৈধ বিদেশীদের চিহ্নিত করার জন্যই নতুন বিভাগটি চালু করা হচ্ছে। কীভাবে কাজ করবে এই বিভাগ? জানা গিয়েছে, একজন ডিসির অধীনে এই বিশেষ টাস্ক ফোর্সটি কাজ করবে। এই বিভাগে কলকাতা পুলিশের সিকিউরিটি কন্ট্রোলের রেসিডেন্সিয়াল পারমিট সেকশন, ইনভেস্টিগেশন সেল, ফরেনার্স ইনকুয়ারি সেকশন, ইললিগাল মাইগ্রেন্টস সেলের আধিকারিকরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। টাস্ক ফোর্সটিকে অবিলম্বে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এসটিএফ ডি শহরে ভিসার মেয়াদ ফুরানোর পরও থাকা বিদেশি নাগরিক ও সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের নথিপত্র যাচাই করবে। এছাড়াও কর-সংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। কলকাতা পুলিশের ডিভিশন, ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ ও ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই টাস্ক ফোর্স ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫’ ও অন্যান্য প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে কাজ করবে। প্রয়োজনে, সন্দেহভাজন বিদেশি নাগরিকদের আটক করে তাঁদের এই দেশ থেকে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া বা ডিপোর্টেশন শুরু করা হবে।

    লালবাজারের সূত্র জানিয়েছে, কলকাতার সব ডিভিশনাল ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তাঁরা বিদেশি নাগরিক সংক্রান্ত অমীমাংসিত মামলাগুলির তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যান ও এসটিএফ ডিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন। শহরের হোটেল, গেস্ট হাউসের আবাসিকদের ক্ষেত্রে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ‘সি’ ফর্মে উল্লিখিত ঠিকানাগুলো যাচাই করার ব্যাপারটাও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এসটিএফ ডি কলকাতা পুলিশের যে কোনও বিভাগ বা শাখার সাহায্য নিতে পারবে। তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট প্রতিনিয়ত এই বিভাগ লালবাজারে পাঠাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)