বাংলায় শিল্পায়নের জোয়ারে লক্ষ্য কর্মসংস্থান, শাহের হাতে আজ আমুলের দই কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
প্রতিদিন | ১৯ জুলাই ২০২৬
রাজ্যের পালাবদলে শিল্পের জোয়ার। শিল্পপতিরা বাংলার ফিরতে শুরু করেছেন। সেই আবহেই পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হচ্ছে আমুলের দইয়ের কারখানা। আজ, রবিবার আমুল বেঙ্গল ডেয়ারির দই উৎপাদন কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে এই অনুষ্ঠান হবে বলে খবর। উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়-সহ অন্যান্য বিশিষ্টরা। প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে এটিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দই কারখানা। জানা গিয়েছে, আমুলের ওই কারখানাটিতে দৈনিক ১০ লক্ষ কেজি দই, লস্যি, সরবৎ এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি হবে।
বছরের পর বছর রাজ্যে ঘটা করে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন করেছে পূর্বতন তৃণমূল সরকার! সেই সম্মেলন থেকে দেওয়া হয়েছে একের পর এক প্রতিশ্রুতি। কিন্তু এরপরেও রাজ্যে কাটেনি শিল্প-খরা। যদিও রাজ্যে পালাবদলের পরেই শিল্পের আশা জাগিয়ে ১০০ দিনের মধ্যে ম্যাজিক দেখানোর বার্তা দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর এহেন বার্তার কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলায় বড়সড় বিনিয়োগের বার্তা। ইতিমধ্যেই হুগলির ডানকুনিতে লাক্স কোজি বিনিয়োগ করেছে। দিন কয়েক আগে বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হল। ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে সেখানে। আর এবার হাওড়ায় আমুলের দই উৎপাদন কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।
রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই শিল্প নিয়ে বড় বার্তা দেওয়া হয়। দিন কয়েকের মধ্যেই জানা যায়, গুজরাটের সংস্থা আমুল বাংলায় কারখানা দই কারখানা করবে। রাজ্য সরকারের তরফে সেই ছাড়পত্রও দেওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় তোড়জোড়। জানা গিয়েছে, আমুলের ওই কারখানাটিতে দৈনিক ১০ লক্ষ কেজি দই, লস্যি, সরবৎ এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি হবে। জানা গিয়েছে, হাওড়ার সালকিয়া ফুড পার্কে ওই ডেয়ারি প্ল্যান্ট তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটাই হবে আমূলের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মালিকানাধীন ডেয়ারি প্ল্যান্ট। সব মিলিয়ে প্রায় ৬৫০ কোটির বিনিয়োগ হবে। তাতে বাংলায় যেমন দুগ্ধ পরিকাঠামো শক্তিশালী হবে, তেমনই কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে জোয়ার আসবে। জানা গিয়েছে গুজরাটেরই একটি সংস্থা দুদফায় ওই কারখানা তৈরি করবে। আগামী দিনে উত্তরবঙ্গেও আমুল বিনিয়োগ করবে বলে খবর।
এমনিতেই আমুল বাংলার সবচেয়ে বড় দুগ্ধ বিক্রয়কারী সংস্থা। দৈনিক ১০ লক্ষ লিটার দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি হয় ওই সংস্থার। এবার ওই উৎপাদন দ্বিগুণ হবে। আমুল সূত্রে অবশ্য খবর, ২০২৫ সালেই তৎকালীন সরকারের সময় এই মৌ সাক্ষর হয়েছিল। নতুন সরকার আসায় প্রকল্প আরও গতি পাচ্ছে।