নয়াদিল্লি: ‘মিশন আগমন’। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। কেউ কেউ বেশ উদ্বিগ্ন। কিন্তু মুহূর্তেই তা বদলে গেল আনন্দ-উচ্ছ্বাসে। শনিবার বেলা ১২টা বেজে ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে রওনা দিল ভারতের প্রথম বেসরকারি স্পেস রকেট ‘বিক্রম ১’। নেপথ্যে হায়দরাবাদের সংস্থা স্কাইরুট অ্যারোস্পেস। ভারতের মহাকাশ গবেষণার মুকুটে যুক্ত হল আরও একটি পালক। এই সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর কথায়, ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ভারতের মহাকাশ গবেষণার এক নতুন দিগন্ত। অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।
স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের তৈরি এই অরবিটাল ক্লাস রকেটটি মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হবে। নির্দিষ্ট কক্ষপথে উপগ্রহগুলিকে স্থাপন করবে কার্বন কম্পোজিট কাঠামোর মাধ্যমে গঠিত এই মহাকাশ যান। রকেটটির কার্যক্ষমতাও অনেকটা বেশি। লো আর্থ অরবিটে এটি প্রায় ৩৫০ কেজি ওজন বহনে সক্ষম। উল্লেখ্য, বিক্রম ১-এর সঙ্গে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর হাতে লেখা একটি কার্ড। ওই কার্ডে লেখা রয়েছে, বন্দেমাতরম। রকেটের সঙ্গে পাঠানো হয়েছে বিক্রম সারাভাই, সিভি রমন ও এপিজে আব্দুল কালামের ছোটো ছোট ভাস্কর্য, এমব্রেস নামের একটি রোবোটিক আর্ম এবং হিরের পদ্ম (কসমিক ব্লুম)। এই রকেট নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য পাঠানো পেলোডগুলিকে সাফল্যের সঙ্গে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছে দিয়েছে।
মঙ্গল, চাঁদ, সূর্য থেকে সমুদ্র। ভারতের বিজয় অভিযান অব্যাহত। সূর্যের বাইরের স্তর ও মহাকাশের আবহাওয়া গভীরে পর্যবেক্ষণ করতে জারি রয়েছে সোলার মিশন- আদিত্য। সব ঠিক থাকলে ২০২৭ সালের মধ্যে সমুদ্রের প্রায় ৬ কিলোমিটার গভীরে পৌঁছাবে ভারতের ‘মৎস্য’ সাবমেরিন। বিজ্ঞানমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের বক্তব্য, বিজ্ঞানীদের নিয়ে সমুদ্রের প্রায় ৬ কিলোমিটার তথা ৩.৭ মাইল গভীরে পৌঁছে যাবে এই সাবমেরিন। সমুদ্রের অতলে বিরল মৃত্তিকা, খনিজ সম্পদ সহ একাধিক জিনিস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।