স্কুল পরীক্ষায় অঙ্কে ৫১! বিক্রম সাফল্যের নেপথ্যে সেই পড়ুয়াই
বর্তমান | ১৯ জুলাই ২০২৬
নয়াদিল্লি: স্কুলের পরীক্ষায় অঙ্ক বিষয়ে কম নম্বর!এমনিতে এমন পড়ুয়াকে সাদামাটা বলেই ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু এমন সব বদ্ধমূল ধারণার গোড়ায় আঘাত হানবে পবনকুমার চন্দনার সাফল্য। আর সেই সাফল্য ফের একবার জানিয়ে দিল পরীক্ষার নম্বরই সব কিছু নয়। মেধা,অধ্যাবসায় ও আগ্রহই সাফল্যের দরজা খুলে দেয়। দেশের প্রথম বেসরকারি মহাকাশ গবেষণার সাফল্য রচনার অন্যতম কারিগর তিনি। শনিবার সাফল্যের সঙ্গে উৎক্ষেপণ হল দেশের প্রথম বেসরকারি রকেট বিক্রম -১ এর। ইতিহাস গড়ল স্কাইরুট এয়ারস্পেস। তাদের তৈরি রকেট সাফল্যের সঙ্গে মহাকাশে উৎক্ষেপণ হয়েছে। নেপথ্যে রয়েছেন ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর দুই প্রাক্তন বিজ্ঞানী। তাঁদের মধ্যে একজন পবনকুমার চন্দনা। খড়্গপুর আইআইটি পড়ুয়া থেকে দেশের প্রথমসারির স্পেস স্টার্টআপের অন্যতম প্রধান কর্তা হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে তাঁর এই যাত্রা অত্যন্ত চমকপ্রদ। হায়দরাবাদে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান চন্দনা ছোটোবেলা থেকেই যন্ত্রপাতি নিয়ে মেতে থাকতে ভালোবাসতেন। অঙ্কে খুব একটা ভালো ছিলেন না। একবার তো মাত্র ৫১ নম্বর পেয়েছিলেন। কিন্তু শুধুমাত্র নম্বরকে ভবিষ্যতের সোপান হিসাবে ধরে নিয়ে হাল ছাড়েননি। ধীরে ধীরে বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতি ভালোবাসা গড়ে ওঠে। আর পড়াশোনার সময় বিভিন্ন কঠিন সময়ে তাঁকে আগলে রাখার কাজটা করেছিলেন বাবা। একথা চন্দনা নিজেই জানিয়েছেন। প্রায় দু’দশক আগে প্রথম চেষ্টাতেই আইআইটি প্রবেশিকা পরীক্ষায় সফল হন তিনি। ভরতি হন খড়্গপুর আইআইটিতে। পড়াশোনা শেষে নিজের ভালো লাগার বিষয় মহাকাশ বিজ্ঞানকেই বেছে নেন চন্দনা। যোগ দেন বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারে। সেখানে প্রথম ছ’বছর ভারতের শক্তিশালী উৎক্ষেপণ যান জিএসএলভি এমকে ৩ নিয়ে কাজ করেছেন। এখানে সাফল্য পেলেও ঝুঁকি নিতে পিছপা হননি চন্দনা। মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে উৎসাহিত ছিলেন তিনি। ইসরোর চাকরি ছেড়ে ২০১৮ সালে ইসরোর আর এক সহকর্মী ইঞ্জিনিয়ার নাগা ভারত ডাকার সঙ্গে হাত মিলিয়ে হায়দরাবাদে গড়ে তোলেন স্কাইরুট এরোস্পেস। নাগা ভারত আইআইটি বম্বের স্নাতক।