• নাবালকদেরও ভিনদেশে পাচার তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থার গোয়েন্দারা
    বর্তমান | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: নকল পরিচয়পত্র তৈরি করে নাবালকদেরও পাচার করেছে মানব পাচারকারীরা। বয়স বাড়িয়ে তাদের দুবাই, কুয়েতের মতো দেশগুলিতে পাঠানো হয়েছে। প্রথমদিকে সমস্যা না হলেও এখন তাদের অনেকেই বিপদে পড়েছে। মানব পাচার নিয়ে কেন্দ্রীয় গোয়োন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। এরাজ্য থেকে কয়েকজনকে তারা গ্রেপ্তারও করেছে। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে মহিলা ও যুবকদের ভুল বুঝিয়ে সীমান্ত পার করিয়ে পাচারকারীরা এরাজ্যে নিয়ে আসত। পরে তাদের বিভিন্ন রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হত। চক্রটি তাদের এদেশের ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করে দিত। সেক্ষেত্রে সেইসময় একশ্রেণির তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি বড় ভূমিকা নিয়েছিল। তদন্তকারীরা আরও জানতে পারেন, শুধু বাংলাদেশিদের নয়, এরাজ্যের নাবালকদেরও কাজের টোপ দিয়ে অন্য রাজ্যে পাঠানো হয়েছে।

    পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থে বিভিন্ন কাজ করেন মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা মতিউর রহমান। তিনি বলেন, চক্রটি সারা দেশে সক্রিয় রয়েছে। কয়েকদিন আগে এক মহিলা আমাদের কাছে এসে দাবি করেন, তাঁর ছেলেকে দুবাইয়ে আটকে রাখা হয়েছে। দিনে ৯০০টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে এক দালাল দুবাই পাঠায়। সেদেশে যাওয়ার পর তার পাসপোর্ট সহ সমস্ত নথি কেড়ে নেওয়া হয়। ঠিকমতো পারিশ্রমিক না দিয়েই তাকে দিয়ে জোর করে কাজ করাতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। কিন্তু নথিপত্র জমা দিতে গিয়ে অসঙ্গতি দেখা যায়। ওই নাবালকের পাসপোর্টের জেরক্স কপি বাড়িতে ছিল। আধারকার্ড আর পাসপোর্টের জন্ম তারিখ সম্পূর্ণ আলাদা দেখা যায়। ওই নাবালকের বয়স ১৭ বছর। অথচ পাসপোর্টে তার বয়স দেখানো হয়েছে ২২ বছর। ওই নাবালকের মা দাবি করেন, সাত হাজার টাকার বিনিময়ে একটি চক্র বয়স বাড়িয়ে পাসপোর্ট করে দিয়েছিল। তাঁর মতো আরও অনেকেই এভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

    গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মানব পাচারকারীরা বিদেশে নাবালকদের পাঠিয়ে মোটা টাকা ফায়দা তোলে। তাদের সঙ্গে দুবাইয়ের সিন্ডিকেটের যোগাযোগ থাকে। নাবালকদের পাঠাতে পারলেই তারা মোটা টাকা কমিশন পায়। কিন্তু পাসপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি কীভাবে ভুয়ো তথ্য দিয়ে তৈরি হত, তা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। পাচার চক্রটি মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, মালদহ, উত্তর দিনাজপুরের মতো বিভিন্ন জেলার দুঃস্থ পরিবারগুলিকে টার্গেট করত। ভুয়ো নথি তৈরি করে দেওয়ার বিনিময়েও তারা ওই পরিবারগুলির কাছে থেকে টাকা হাতিয়ে নিত। পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশও কয়েক মাস আগে ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরির একটি চক্রের হদিশ পেয়েছিল। ওই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ আউশগ্রাম, শক্তিগড় এবং হুগলি থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। এবার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সার্বিকভাবে এই চক্রটির খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে।
  • Link to this news (বর্তমান)