• গা বাঁচাতে এবার কলকাতায় শহিদস্মরণ সভায় যাচ্ছেন না অনেক তৃণমূল নেতা
    বর্তমান | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: রাজ্যে পালাবদলের পর বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক হালচাল। এবার, পূর্ব মেদিনীপুর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথমসারির নেতাদের অনেকেই গা বাঁচাতে ২১জুলাই কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে শহিদ সভায় যাচ্ছেন না। আবার, বিপক্ষ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরেও তাঁরা যোগ দিতে চান না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় তৃণমূল নেতাদের একটা বড়ো অংশ চুপচাপ থাকতে চাইছে। যদিও একটা অংশ বিজেপিতে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়ে আছে। কিন্তু, দরজা বন্ধ থাকায় আপাতত সেটা আটকে রয়েছে। কেউ কেউ জানিয়েছেন, চুপিসারে কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা শহিদ সভায় হাজির হবেন। তাঁদের বক্তব্য, কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে হইহই করে যাওয়ার পরিবেশ এবার নেই।

    এবার কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভা আসনে পরাজিত তৃণমূল নেতা তরুণ জানা বিজেপি পরিচালিত জেলা পরিষদ বোর্ডের মৎস্য ও প্রাণী কর্মাধ্যক্ষ হয়েছেন। তরুণবাবু বলেন, ২১জুলাই কলকাতায় শহিদ সভায় যাওয়ার মতো ইচ্ছা নেই। রাজনীতি থেকে বসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জেলা পরিষদ বোর্ড বিজেপির। সেখানে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কর্মাধ্যক্ষ হিসাবে রয়েছি। সভাধিপতি আমাদের সকলকে নিয়ে চলতে চাইছেন। এই মুহূর্তে যা রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাতে ২১জুলাইয়ে সভায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

    পাঁশকুড়া পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান নন্দকুমার মিশ্র বলেন, ২১ জুলাই নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের আবেগ রয়েছে। আমিও প্রতি বছর এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকেছি। কিন্তু, এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। তাই এবার হয়তো যাওয়া হবে না। আপাতত দুর্গাপুজো পর্যন্ত চুপচাপ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পুজোর পর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব। জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি উত্তম বারিক ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা প্রদীপ দে বলেন, আগে ২১ জুলাই এলে এক মাস ধরে প্রস্তুতি সভা, বৈঠক চলত। এবার তেমনটা করার সুযোগ নেই। দল ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর ভাঙনের জেরে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি। আমরা ২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় উপস্থিত থাকব। তবে, কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে হইচই করে যাওয়া হবে না। চুপচাপ যাব এবং নেত্রীর বক্তব্য শুনে ফিরে আসব। 

    পটাশপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পরাজিত তৃণমূল নেতা পীযূষকান্তি দাস বলেন, ৪মে-র পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আমূল বদলেছে। নীচুতলার কর্মীরা দিশাহীন। ২১জুলাইয়ের সভা থেকে কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো দিশা দেখাবেন বলে আশা করছি। আমরা সেই সভায় যাব বলে ঠিক করেছি।

    পালাবদলের পর এই জেলায় প্রায় ২৫জন তৃণমূল নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। বহু নেতাকর্মী ঘরছাড়াও রয়েছেন। তমলুক, নন্দকুমার, নন্দীগ্রাম, ভগবানপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় অনেক নেতা ঘরছাড়া। দল হারতেই কর্মীরাও কোণঠাসা। এই অবস্থায় ২১জুলাই নিয়ে কর্মীদের সেই আবেগ উধাও। আগাম বাস বুকিং নেই। নেতাদের একটা বড়ো অংশও গা বাঁচিয়ে চলতে ২১জুলাই ঘরবন্দি থাকবে। 
  • Link to this news (বর্তমান)