• দু’দিন নিখোঁজ থাকার পর ঘরে ফিরল রাইফেল শ্যুটার দময়ন্তী
    বর্তমান | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: দু’দিনের উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঘরে ফিরল ১৫ বছর বয়সি হাওড়ার রাইফেল শ্যুটার দময়ন্তী সেন। তবে মেয়েকে ফিরে পাওয়ার স্বস্তির মধ্যেও রয়ে গিয়েছে একাধিক প্রশ্ন। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর শনিবার ভোরে রামকৃষ্ণপুর ঘাটের জেটিতে তাকে বসে থাকতে দেখা যায়। সেখান থেকে বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন মেয়েকে নিয়ে হাওড়া থানায় যান। কিন্তু এই দু’দিন সে কোথায় ছিল, কীভাবে কাটিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে রামকৃষ্ণপুর ঘাটে পৌঁছল, তা এখনও পরিবার ও পুলিশের কাছে স্পষ্ট নয়। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।

    দময়ন্তীর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন বলেন, মেয়েকে ফিরে পেতে এই দু’দিন পুলিশ প্রচুর সাহায্য করেছে। পুলিশের তরফে প্রতিমুহূর্তের আপডেট পেয়েছি, তখন বুঝতে পেরেছি মেয়ে সুরক্ষিত রয়েছে। তিনি জানান, এদিন ভোরে এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে তিনি রামকৃষ্ণপুর ঘাটে ছুটে যান। সেখানে জেটির এক কোনে চুপচাপ বসে ছিল দময়ন্তী। বাড়ি থেকে যে পোশাক পরে সে বেরিয়েছিল, তার বদলে ছিল অন্য পোশাক। সামনে গিয়ে ‘সোনাই’ বলে ডাকতেই মেয়ের একটাই কথা, ‘বাবা, বাড়ি চলো’। ধ্রুবজ্যোতিবাবুর কথায়, ‘ও শুধু বলছিল, আমি এই দু’দিন অনেক হেঁটেছি, খুব ক্লান্ত’। ও জানিয়েছে, আবার রাইফেল শুটিংয়েই মন দিতে চায়। আমার মনে হয়, পড়াশোনা আর খেলাধুলোর চাপ সামলাতে না পেরে মানসিক চাপে ভুগছিল। মাধ্যমিকের প্রস্তুতি, স্কুলের অ্যাটেনডেন্স কমে যাওয়া এবং খেলাকে নিয়ে ওর মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। এখন আমাদের একটাই চেষ্টা, ও যেন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।’

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দময়ন্তী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে ট্রেনে চেপে শ্রীরামপুর স্টেশনে নেমে সে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়, এমনকি মাহেশের রথের মেলাতেও যায়। পরে স্থানীয় এক দক্ষিণী তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই তরুণী তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জামাকাপড় ও খাবারের ব্যবস্থা করে দেয় বলে দাবি করেছে দময়ন্তী। সেখান থেকে এদিন ভোরে শ্রীরামপুর থেকে ট্রেনে লিলুয়া পৌঁছে টোটোয় রামকৃষ্ণপুর ঘাটে আসে সে। তবে এই বয়ানের প্রতিটি অংশই এখন যাচাই করছে পুলিশ। এদিন হাওড়ায় রেল আদালতে দময়ন্তীর গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়। হাওড়া সিটি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (সেন্ট্রাল) তৌসিফ আলি আজাহার জানান, দময়ন্তী নিজেই ফিরে এসেছে। পরিবারের সঙ্গে পড়াশোনা ও খেলাধুলা নিয়ে কিছু মতপার্থক্যের বিষয় সামনে এসেছে। তবে সে কোথায় ছিল, কার সঙ্গে ছিল এবং কীভাবে দিন কাটিয়েছে, সেই সমস্ত তথ্য এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)