প্ল্যান ছাড়াই বিল্ডিং তৈরির অভিযোগ, অভিষেকের কার্যালয়ে বুলডোজার
বর্তমান | ১৯ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভোট প্রচারে এসে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ফল বেরোনোর পর বিজেপির পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। কিন্তু আমার আমতলা অফিসে পত পত করে জোড়াফুলের ঝান্ডা উড়বে। পালাবদলের পর সেই ‘গর্বের’ কার্যালয়ে এবার চলল বুলডোজার! অভিযোগ, পাঁচতলা এই বহুতল নির্মাণ করা হয়েছে বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন না করিয়েই! শনিবার সকাল থেকে কড়া পুলিশি নজরদারি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে সেটি ভাঙার কাজ শুরু হয়। হয়।
জানা গিয়েছে, প্রায় ১২ বছর আগে এই জমিতে একটি বেকারি ছিল। রাতারাতি সেখানে নাকি আগুন লেগে যায়। তারপর হঠাৎ একদিন সেই জমিতে মাথা তুলতে শুরু করে এই বহুতল। বিজেপি নেতা সুফল ঘাটুর দাবি, ওই বেকারির মালিককে চাপ দিয়ে কম টাকায় এই জমি লিখিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এদিকে, এই জমি অবশ্য সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে নেই। অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে রয়েছে। তিনি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস নামে একটি কোম্পানির ডিরেক্টর তিনি। জানা গিয়েছে, সাংসদের এই কার্যালয় যে বেআইনি, সেটা নিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল। তার ভিত্তিতে ১৫ জুলাই শুনানির জন্য সব পক্ষকে নথিপত্র নিয়ে হাজির হতে বলা হয়। দু’বার নোটিস দেওয়া হয় এই আমতলার কার্যালয়ে। জানা গিয়েছে, অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে তাঁর আইনজীবী হাজির হয়েছিলেন শুনানিতে। সেখানে এই বিল্ডিং প্ল্যান দেখাতে বলা হয়। অভিযোগ, সেটা তিনি দেখাতে পারেননি। এরপরই জেলা প্রশাসন এই কার্যালয়কে বেআইনি হিসাবে গণ্য করে। এক আধিকারিক বলেন, দোতলার বেশি কোনো নির্মাণ হলে, জেলা পরিষদের তরফে বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তাদের কাছে কিছুই আসেনি।
এদিন সকালে বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি) হঠাৎ ফেসবুকে পোস্ট করে এই বুলডোজার অভিযানের খবর জানান। তারপরই দেখা যায়, ওই এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয় আমতলা-বারুইপুর রোডে। ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয় ওই কার্যালয়ের সামনের অংশ। বেলা ১২টার কিছু পরে অভিযান শুরু হয়। তখন বাইরে কয়েকশো বিজেপি কর্মী-সমর্থকের ভিড়। বুলডোজার চলার সময় আচমকা অতুৎসাহী কিছু বিজেপি কর্মী ভিতরে ঢুকে পড়েন। হাতুড়ি দিয়ে দরজার গেট ভাঙেন তাঁরা। নির্বিকার ছিল পুলিশ। নির্বিচারে ভাঙচুর চালানোর পর টনক নড়ে উর্দিধারীদের। এরপরই কর্মীদের বের করে দেওয়া হয়। কার্যালয় ভাঙচুরের সময় বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উল্লাস নজরে পড়ে। এলাকায় লাড্ডু বিলি করেন তাঁরা। একতলার বাইরের একাংশ ভাঙার পর স্থগিত হয়ে যায় অভিযান। তারপর প্রশাসনিক কর্তারা ভিতরে ঢুকে কাগজপত্র কী আছে সেসব খুঁজতে থাকেন।
তাঁর কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন অভিষেক। কালীঘাটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, কিসের ভিত্তিতে অভিযোগ করা হয়েছিল সেই অভিযোগপত্র দিতে পারেনি জেলা প্রশাসন। যে আইনে এই পার্টি অফিস ভাঙা হয়েছে, এই সরকার যখন যাবে তখন ওই একই আইনে বিজেপির একটাও পার্টি অফিস থাকবে না। অভিষেকের দাবি, এই কার্যালয় নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। সেটা উপেক্ষা করে বুলডোজার চালানো হয়েছে। এদিনের ঘটনা নিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। বিজেপি নেতাদের সাক্ষী হিসাবে ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ভিডিওতে যাঁদের দেখা যাচ্ছে, তাঁরা কেউ বাঁচবেন না।