• রাজারহাটের বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম ১, অভিযুক্ত কানা শামিম গ্রেপ্তার, ঘটনাস্থলে এনআইএ
    বর্তমান | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বিকট শব্দ। বন্ধ ঘরের জানালা-দরজা ভেঙে বেরিয়ে এসেছিল আগুনের হলকা। কেঁপে উঠেছিল এলাকা। ঝলসে গিয়েছে দেওয়াল থেকে ছাদ। চাঙর ভেঙে পড়ে জখম পাশের বাড়ির যুবক। শুক্রবার রাতে বিমানবন্দর সংলগ্ন নারায়ণপুর এলাকায় এমনই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। যে বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেখানে তখন কেউ ছিলেন না। এক অচেনা তরুণ মিনিট পাঁচেক আগে ওই বাড়িতে একটি ব্যাগ রেখে গিয়েছিল। তরুণ বেরিয়ে যাওয়া মাত্রই বিস্ফোরণ। ওই ব্যাগেই বোমা ছিল বলে বলছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সিআইডি, বেঙ্গল এসটিএফ এবং এনআইএ। বম্ব স্কোয়াডের আধিকারিকরা গিয়ে উদ্ধার করেন দুটি বোমা ও বিস্ফোরকের বেশ কিছু নমুনা। বিস্ফোরণ কাণ্ডের মূল পান্ডা মহম্মদ শামিম ওরফে কানা শামিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট জাতীয় শক্তিশালী বিস্ফোরক দিয়ে বোমা বানানো হয়েছিল। যার জেরেই বিস্ফোরণের অভিঘাত এত তীব্র। বিস্ফোরণের ‘ছানবিন’ শুরু করেছে এনআইএ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত কানা শামিমের বাড়ি কামারহাটিতে। অপরাধের দীর্ঘ ইতিহাসও রয়েছে। ইরফান-কালাম দুষ্কৃতী গ্যাংয়ের সদস্য সে। গ্যাংয়ের গণ্ডগোলে ২০০১ সাল থেকে এলাকা ছাড়া।

    শাহেনশা নামে এক দালাল মারফত শামিম গত ১৫ জুলাই নারায়ণপুরের সুপারিবাগানে বাড়ি ভাড়া নেয়। সরু ঢালাই রাস্তার পাশে ঘিঞ্জি এলাকা। সেখানেই চারতলা বাড়ির নীচেরতলায় ভাড়া নিয়েছিল। বাড়ি মালিক জুলফিকার ওই বাড়িতেই চারতলায় থাকেন। বাকি প্রতিটি তলায় ভাড়াটিয়া। জুলফিকারকে শামিম বলেছিল, সে এবং তারই এক সঙ্গী মাঝে মধ্যে এসে থাকবে। আগামী সোমবার থেকে ওদের থাকার কথা ছিল। পুলিশ বলছে, শুক্রবার দুই তরুণ এসে ভাড়া নেওয়া ঘর সাফসুতরো করে। এরপর নারায়ণপুর বাজারে শামিম ওই দুই তরুণকে একটি ব্যাগ দেয়। বলে খাবার আছে, ভাড়ার বাড়িতে রেখে দিয়ে আসতে হবে। ওই দুই তরুণ বাইকে চেপে এসে ব্যাগটি রেখে যায়। সিসি ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে, এক তরুণ রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল। অন্যজন বাড়ির তালা খুলে ভিতরে ব্যাগটি রেখে যায়। তার ৫ মিনিটের মধ্যেই বিস্ফোরণ হয়। পাশের ঘরে চাঙর ভেঙে পড়ায় মহম্মদ সাজিদ নামে এক ভাড়াটিয়া জখম হন। মাথা ফেটে গিয়েছে। রাতেই পুলিশ পৌঁছয়। বাড়ি মালিক, দালাল এবং দুই তরুনকে আটক করে জেরা চলে। তারপরই শামিমের নাম পায়। দিনভর পালিয়ে বেড়ালেও, সন্ধ্যায় সোদপুর থেকে গ্রেপ্তার হয় শামিম। কী কারণে বা কার নির্দেশে বোমা মজুত করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বিধাননগর কমিশনারেটের ডিসি (নিউটাউন) জ্যোতির্ময় রায় বলেন, বিস্ফোরণস্থল থেকে দুটি বোমা উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি পরীক্ষা করা হবে। তদন্ত চলছে। রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছে বলেন, আগের বিধায়ক এলাকায় সন্ত্রাসের রাজনীতি করছেন। সন্ত্রাসবাদী তৈরি করতেন। আমরা বোমা-বন্দুকের বদলে পেন-বই তুলে দেব। প্রাক্তন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায় বলেন, যে বাড়িভাড়া ঠিক করে দিয়েছিল সেই শাহেনশাই তো বিজেপির কর্মী!
  • Link to this news (বর্তমান)