অর্ধেকের বেশি ডাক্তার নেই, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে কবুল করলেন অধ্যক্ষই, ন্যাশনাল মেডিকেল
বর্তমান | ১৯ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতার পাঁচ মেডিকেল কলেজের একটি। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে সরকারি গুরুত্ব পাওয়ার দিক থেকে একেবারে তলানিতে পার্ক সার্কাসের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ। ১০০ বছর পার হলেও কলকাতার একমাত্র মেডিকেল কলেজ যেখানে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ আছে কিন্তু কোনো মর্গ নেই। একাধিক জায়গায় পরিকাঠামোগত খামতি। এখানকার কার্যনিবাহী অধ্যক্ষই এবার লিখিতভাবে স্বীকার করলেন এ কথা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে পাঠানো এক চিঠিতে অধ্যক্ষ ডাঃ অর্ঘ মৈত্র প্রায় চাঁচাছোলা ভাষায় নিজের হাসপাতাল ও কলেজের বেহাল দশার কথা তুলে ধরেছেন।
১৫ জুলাই ছিল ন্যাশনালের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কলেজ কাউন্সিলের বৈঠক। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ১৭ জুলাই ন্যাশনালের অধ্যক্ষ স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠান। বিষয় ছিল, ন্যাশনাল মেডিকেলের আশু কী কী প্রয়োজন।
সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অধ্যক্ষ চিঠিতে জানিয়েছেন, যতদিন যাচ্ছে, রোগী বাড়ছে। কিন্তু পরিকাঠামো রয়েছে সেই তিমিরেই। অবিলম্বে জমি অধিগ্রহণ করে হাসপাতালের সম্প্রসারণ প্রয়োজন। সম্প্রসারিত অংশে নতুন বাড়ি তৈরি করে সেখানে নেফ্রোলজি, এন্ডোক্রিনোলজি, কার্ডিওলজি, গ্যাসট্রোএনটেরোলজি, রেডিওথেরাপি প্রভৃতি সুপার স্পেশালিটি বিভাগ চালু করা উচিত। নতুন ভবনের নাম দেওয়া হোক ডাঃ কেশব বালিরাম হেডগেওয়ারের (আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠাতা) নামে।
কী অবস্থা হাসপাতালের? ন্যাশনালের অধ্যক্ষ চিঠিতে জানিয়েছেন, মেডিকেল কলেজগুলির সর্বভারতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের (এনএমসি) বিধি অনুযায়ী চিকিৎসক নেই হাসপাতালে কোনো বিভাগেই। বহু বিভাগে ডাক্তারের সংখ্যা যা দরকার, আছে তার অর্ধেকেরও কম। নার্স, চতুর্থ শ্রেণির কর্মী, নিরাপত্তারক্ষী সবেতেই চূড়ান্ত লোকবলের অভাব। সে কারণে ভুগছে সাধারণ মানুষ, ভুগছেন ডাক্তারি ছাত্র-ছাত্রীরাও। এখানে ফরেনসিক বিভাগ আছে, অথচ মর্গ নেই। অ্যানাটমি বিভাগের একতলায় মর্গ করার পরিকাঠামো রয়েছে। কলেজ ও হাসপাতালের সংযোগ রক্ষায় ‘এরিয়াল পাস’ করারও প্রসঙ্গও উঠেছে চিঠিতে। এইসব বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন কার্যনিবাহী অধ্যক্ষ।