সাইবার, মহিলাঘটিত অপরাধ কমানোর লক্ষ্যে যৌথ টহলদারি টিম গঠন কলকাতার সিপির
বর্তমান | ১৯ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার যৌথ টহলদারি টিম গঠন করার কথা ঘোষণা করলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) অজয় নন্দা। শনিবার এক লিখিত নির্দেশিকায় সিপি জানিয়েছেন, দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড, লালবাজার সাইবার থানা, কলকাতা পুলিশের উইমেন সেল, স্থানীয় থানা এবং সংশ্লিষ্ট ডিভিসনের মহিলা থানার সদস্যদের নিয়ে এই যৌথ টহলদারি টিম গঠন করা হচ্ছে। মূলত, মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং সাইবার ক্রাইম নিয়ে কলকাতার সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেই এই যৌথ টহলদারি টিম গঠন করা হয়েছে। আগামী ২০ জুলাই এই টিম প্রথমবার পথে নামবে। প্রথম দিন যাদবপুর এইটবি বাস স্ট্যান্ড এবং সাউথ সিটির কাছে এই টিম টহল দেবে বলে জানা গিয়েছে। শহরবাসীকে সচেতন করতে লিফলেট বিলির পাশাপাশি ভিডিও ক্লিপিংও প্রদর্শন করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লালবাজারের এক বিশেষ সূত্র জানাচ্ছেন, সচেতনতা বাড়াতে এই যৌথ টহলদারি টিম গঠনের ভাবনা পুরোপুরি কলকাতার পুলিশ কমিশনারের মস্তিস্কপ্রসূত। নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু সিপির এই উদ্যোগ নিয়ে বাহিনীতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রথমত, কলকাতার সিংহভাগ থানাতে এখন কনস্টেবলের সংখ্যা তলানিতে। ফলে থানা এলাকাতে টহলদারি কার্যত বন্ধ! যেটুক চলছে মূলত, সিভিক এবং হোমগার্ডদের কাঁধে ভর করে। দ্বিতীয়ত, দু’-একটি শাখা বাদে গোয়েন্দা বিভাগের প্রায় সব শাখাতে এসআই বা দারোগার সংখ্যা কমতে কমতে এখন গড়ে ৪-৫ জনে এসে দাঁড়িয়েছে! হোমিসাইডের মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখাতে এখন দারোগার সংখ্যা মেরেকেটে পাঁচজন। সামনে দু’জনের প্রমোশন পাওয়ার কথা। আগামী দিনে এই শাখা কীভাবে চলবে, সেদিকে শীর্ষকর্তাদের নজর নেই বলে অভিযোগ উঠছে বাহিনীতে।
উল্লেখ্য, হাতেকলমে কাজ শিখে সোর্স-নেটওয়ার্ক তৈরি করে পরিপূর্ণ গোয়েন্দা তৈরি হতে একজন দারোগার কমপক্ষে ৭-৮ বছর সময় লাগবে। ফলে রাতারাতি গোয়েন্দা বিভাগে একজন এসআই পোস্টিং করলে সমস্যার চটজলদি সমাধান হবে না। তৃতীয়ত, কলকাতায় প্রতিদিন একাধিক মিছিল-মিটিং, বিক্ষোভ, সমাবেশ সামাল দিতে হয়। তারপর এই ধরনের বাড়তি টহলদারির কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বাহিনীর অন্দরে।