• ‘দরকারে চিনকে সঙ্গে নেব’, বিশ্বকাপ ‘সফল’ ঘোষণা করে আবার আয়োজনের আবদার ট্রাম্পের
    প্রতিদিন | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • রবিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোকে পাশে বসিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই খবর অনেক আগেই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট। কিন্তু শুক্রবার নিউ ইয়র্কে ট্রাম্প টাওয়ারে একটি অনুষ্ঠানে ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফ্যান্তিনোর সামনেই ট্রাম্প বলে বসেন, দারুণভাবে বিশ্বকাপের আয়োজন করার জন্য আমেরিকাকে ফের বিশ্বকাপের আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। তবে এবার বিশ্বকাপের দায়িত্ব পেলে কানাডা আর মেক্সিকোকে সঙ্গী করবেন না, জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    বিশ্বকাপের তারকা ফুটবলারদের মাঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সব সময় খবরের শিরোনামে। শেষ আলোচনায় এসেছিলেন, দলের ফুটবলারের উপর থেকে লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য ফিফা প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফোন করে। বেশ কিছুদিন পর শুক্রবার ফের তিনি আলোচনায়। ফাইনালের দু’দিন আগে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ট্রাম্প টাওয়ারে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল ফিফা। সেখানে ফিফা সভাপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কনমেবলের সভাপতি। সেখানেই সুষ্ঠুভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করেন ইনফ্যান্তিনো। পাশাপাশি এ-ও জানিয়ে দেন, ফাইনাল দেখার পাশাপাশি ফুটবলারদের হাতে পুরস্কারও তুলে দেবেন তিনি।

    বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে ফিফা প্রেসিডেন্টের থেকে প্রশংসাসূচক মন্তব্য পাওয়ার পরই ট্রাম্প কিছুটা রসিকতা করে বলেন, “মনে হচ্ছে, আমরা আসলে সকারের দেশ। আমাদের আরও একবার বিশ্বকাপ আয়োজন করা উচিত।” এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল কিন্তু তারপরেই ট্রাম্প রসিকতা করে বলে ওঠেন, “এবার আয়োজন করলে সঙ্গী হিসেবে কানাডা আর মেক্সিকোকে নেব না। সেক্ষেত্রে না হয় চিনের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপের আয়োজন করব।” বিশ্বকাপ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডন্ট তখন এতটাই মজে গিয়েছেন যে এরপর ইংল্যান্ড দল প্রসঙ্গে চলে যান। “আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেনের সঙ্গে গলফ খেলেছি আমি। কিন্তু ওদের কোচ কোন যুক্তিতে কেনকে ম্যাচের মধ্যে এতটা রক্ষণাত্মক খেলিয়েছে, তা বুঝতে পারলাম না।”

    এমনিতেই হেরে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলের আর্জেন্টিনা ম্যাচে খেলার স্ট্র্যাটেজি নিয়ে চারদিকে সমালোচনা চলছে। তারমধ্যে এদিন অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আবার টুখেলের কোচিংকে খোঁচা দিয়ে বলেন, “ফুটবল নিয়ে আমার খুব একটা জ্ঞান নেই। তবে এটা বুঝেছি, সেদিন ইংল্যান্ড যখন এগিয়ে গিয়েছে, দেখলাম, তারপরই তাদের কোচ দলের সেরা ফুটবলার, হ্যারি কেনকে নিচে নামিয়ে দিলেন। হ্যারি খুবই ভালো মানুষ। ও যদি সেই সময় একটু আক্রমণে থাকত, আমার তো মনে হয় ইংল্যান্ডের জন্য ভালই হত।”

    পরক্ষণেই অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “এটাও ঠিক। আমি আর ফুটবলের কতটুকু বুঝি।” মানে, বলবেন না, বলবেন না করেও টুখেলের কোচিং নিয়ে বেশ খোঁচাই দিয়েছেন তিনি। এমনিতে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর ঘরে বাইরে সমালোচিত হলেও, ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন টুখেলের সঙ্গে চুক্তি বাড়িয়ে ২০২৮-এর ইউরো পর্যন্ত করেছে। তবে ট্রাম্প যে হ্যারি কেনের জন্যই খোঁচাটা দিয়েছেন, বোঝা গিয়েছে। কারণ, দেড় বছর আগে ইংল্যান্ড অধিনায়কের সঙ্গে ওয়েস্ট পাম বিচে একবার গলফ খেলেছিলেন ট্রাম্প। আর তারপর থেকেই হ্যারি কেনের ব্যাপারে একটু বেচাল কিছু দেখলেই মন্তব্য করে দেন তিনি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)