• শেষ লগ্নেই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর— বিশ্বকাপে কামব্যাক কিং এখন আর্জেন্তিনা
    এই সময় | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • এই বিশ্বকাপে আর্জেন্তিনা যেন নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করেছে। টুর্নামেন্ট যত শেষের দিকে এগিয়েছে, ততই আরও ভয়ঙ্কর, আরও পরিণত হয়ে উঠেছে লিওনেল স্কালোনির (Lionel Scaloni) দল। নকআউট পর্বে মিশর (Egypt), সুইৎজ়ারল্যান্ড (Switzerland) এবং ইংল্যান্ড (England)— তিন প্রতিপক্ষই একটা সময়ে ভেবেছিল ম্যাচ তাদের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজতেই হাসি ফুটেছে আর্জেন্তিনার শিবিরে। বারবার প্রতিকূলতা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার এই অসাধারণ ক্ষমতাই আলবিসেলেস্তেদের টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছে।

    আর্জেন্তিনার এই বিশ্বকাপ যাত্রা শুধু জয়ের গল্প নয়, ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পও।

    শেষ ষোলোয় মিশরের বিরুদ্ধে একটা সময়ে ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল তারা। লিওনেল মেসির (Lionel Messi) পেনাল্টিও বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক। তখন মনে হচ্ছিল, বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। কিন্তু শেষ ১১ মিনিটে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো (Cristian Romero), মেসি এবং এনজ়ো ফার্নান্দেজ়ের (Enzo Fernandez) গোলে অবিশ্বাস্য ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্তিনা।

    কোয়ার্টার ফাইনালে সুইৎজ়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলই করতে পারেনি তারা। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেই জুলিয়ান আলভারেজ় (Julian Alvarez) এবং লাউতারো মার্তিনেজ়ের (Lautaro Martinez) গোলে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয়।

    সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও একই দৃশ্য। ৫৫ মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর ৮৫ মিনিট পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্তিনা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এনজ়ো ফার্নান্দেজ়ের সমতা ফেরানো গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্তিনেজ়ের হেড— সব হিসাব পাল্টে দেয়। ২-১ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে পৌঁছে যায় তারা।

    মোদ্দা কথা, তিনটি নকআউট ম্যাচ, তিনবার মৃত্যুফাঁদ থেকে ফেরা। যেন হার মানতে ভুলে গিয়েছে আর্জেন্তিনা। যতবার মনে হয়েছে সব শেষ, তত বারই তারা নতুন অধ্যায় লিখেছে। মিশরের বিরুদ্ধে ০-২, সুইৎজ়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৯০ মিনিট গোলশূন্য, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ পাঁচ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে— প্রতিবারই বিপদের কিনারায় দাঁড়িয়ে ছিল স্কালোনির দল। কিন্তু আর্জেন্তিনাকে কখনও হারানো যায়নি।

    এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো তাদের ফুটবল নয়, তাদের বিশ্বাস। ম্যাচের ঘড়ি যত ফুরিয়েছে, ততই যেন বেড়েছে তাদের সাহস। প্রতিপক্ষ যখন জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে, তখনই আর্জেন্তিনা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রূপে ধরা দিয়েছে।

    লিওনেল মেসিকে ঘিরে আর্জেন্তিনার সতীর্থদের সেলিব্রেশন
    বিশ্বকাপ ফাইনালের মাঠ নিয়ে এত সমালোচনা কেন? বৃষ্টি কি বদলে দিতে পারে সব সমীকরণ?
    আর সেই কারণেই এই ফাইনালে ওঠা কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়। এটি এমন এক দলের গল্প, যারা বারবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে, বারবার অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্তিনা যেন প্রমাণ করে দিয়েছে— যতক্ষণ শেষ বাঁশি না বাজছে, ততক্ষণ তাদের গল্প শেষ হয় না।

    প্রশ্ন: নকআউট পর্বে কোন কোন ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে জিতেছে আর্জেন্তিনা?
    উত্তর: মিশরের বিরুদ্ধে ০-২ থেকে ৩-২ জয় এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ০-১ থেকে ২-১ জয়।

    প্রশ্ন: সুইৎজ়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কী হয়েছিল?
    উত্তর: নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে জয়ের গোল পায় আর্জেন্তিনা।

    প্রশ্ন: ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্তিনার দুই গোলদাতা কারা?
    উত্তর: এনজ়ো ফার্নান্দেজ় ও লাউতারো মার্তিনেজ়।

    প্রশ্ন: মেসি কি সেমিফাইনালে গোল করেছিলেন?
    উত্তর: না, তবে দু’টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন।
    প্রশ্ন: বিশ্বকাপ ফাইনালে কার মুখোমুখি হবে আর্জেন্তিনা?
    উত্তর: স্পেনের (Spain)।

    এই বিশ্বকাপে আর্জেন্তিনার আসল শক্তি শুধু তাদের তারকাখচিত দল নয়, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যাওয়ার মানসিকতা। আর এই টুর্নামেন্টে একটি কথাই তারা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে— আর্জেন্তিনাকে হারাতে হলে শুধু এগিয়ে থাকলেই হয় না, শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত টিকে থাকতে হয়।
  • Link to this news (এই সময়)