সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগে রবিবার অনুষ্ঠিত সর্বদল বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করলেন বিরোধী দলের নেতারা। তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের সংগঠন ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-কে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রতিবাদেই এই ওয়াকআউট। যদিও কিছুক্ষণ পরে তাঁরা ফের বৈঠকে যোগ দেন।
বিরোধীদের অভিযোগ, তৃণমূলের প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের NCPI-তে যোগদানের বিষয়টি এখনও লোকসভার স্পিকারের অনুমোদন পায়নি। তা সত্ত্বেও একটি অস্বীকৃত দলকে সর্বদল বৈঠকে ডাকা হয়েছে, যা সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী।
তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের আপত্তি হলো, সংসদের ওয়েবসাইটে যার নামই নেই, এমন একটি অস্বীকৃত দলকে সর্বদল বৈঠকে ডাকা হয়েছে।’
তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘আজ কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, আম আদমি পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স, বাম দল এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-সহ গোটা বিরোধী জোট সর্বদল বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেছে। কারণ তথাকথিত NCPI একটি অস্বীকৃত দল। সংসদের টেবিল অফিসের তালিকায় এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ২৮ দেখানো হয়েছে। ২০ জন সাংসদ NCPI-তে যোগ দেওয়ার দাবি করছেন, কিন্তু এখনও স্পিকার তা অনুমোদন করেননি।’
সংসদের সরকারি ওয়েবসাইটেও এখনও ওই ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদকে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবেই দেখানো হচ্ছে। যদিও এই ওয়াকআউট ছিল প্রতীকী প্রতিবাদ। কিছুক্ষণ পরেই বিরোধী নেতারা আবার বৈঠকে ফিরে আসেন।
এ দিকে NCPI গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়া কাকলি ঘোষ দস্তিদার সর্বদল বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সুদীপ বন্দোপাধ্যায়ও বিষয়টি নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সভাপতিত্বে এই সর্বদল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
১. বিরোধীরা কেন সর্বদল বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেন?
NCPI-কে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রতিবাদে বিরোধীরা ওয়াকআউট করেন।
২. NCPI কী?
এটি তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে গঠিত একটি রাজনৈতিক দল।
৩. বিরোধীদের মূল আপত্তি কী ছিল?
তাদের দাবি, NCPI-র সঙ্গে সাংসদদের সংযুক্তি এখনও স্পিকারের অনুমোদন পায়নি।
৪. ওয়াকআউটের পর কী হয়েছিল?
কিছুক্ষণ পর বিরোধী নেতারা আবার সর্বদল বৈঠকে ফিরে আসেন।
৫. তৃণমূলের পক্ষ থেকে কী বলা হয়েছে?
মহুয়া মৈত্র ও সৌগত রায় বলেন, একটি অস্বীকৃত দলকে সর্বদল বৈঠকে ডাকা সংসদীয় রীতির পরিপন্থী।