• ‘বেআইনি ভাবে আটকে রাখা হয়েছে...’, দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ সোনামের স্ত্রী, দ্রুত শুনানির আর্জি
    এই সময় | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। একটানা তিন সপ্তাহ অনশনের পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে সোনমের। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন সোনামের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। তাঁর অভিযোগ দিল্লির সাফদারজং হাসপাতালে বেআইনি ভাবে আটকে রাখা হয়েছে সোনামকে। গীতাঞ্জলি আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, সোনমকে যেন বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার অনুমতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আদালতের কাছে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি জানিয়েছেন গীতাঞ্জলি।

    সোনামের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী হাসপাতালেও অনশন জারি রেখেছেন। কিন্তু চিকিৎসা ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। গীতাঞ্জলির অভিযোগ, সোনামের আসল মেডিক্যাল রিপোর্ট লুকিয়ে রেখেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেই কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বামীকে অন্যত্র নিয়ে যেতে চাইছেন গীতাঞ্জলি। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওয়াংচুকের বর্তমানে অবস্থা স্থিতিশীল। কিন্তু তিনি চিকিৎসা নিতে অস্বীকার করেছেন।

    গীতাঞ্জলি এ প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি সাফদারজং সরকারি হাসপাতালের উপর আস্থা হারিয়েছি। হাসপাতাল আমাদের জানিয়েছিল সোনামের শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে ২.৯ হয়ে গিয়েছে, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু পাবলিক হেলথ বুলেটিনে শুধুমাত্র পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।’ গীতাঞ্জলির আরও অভিযোগ, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওয়াংচুককে ছেড়ে দিতে বা বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে রাজি হয়নি।

    গীতাঞ্জলি আরও দাবি করেছেন, হাসপাতাল চত্বরে তাঁদের গতিবিধির উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। হাসপাতালে ১০০ জনেরও বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩০ জন পুলিশ কর্মী ওয়াংচুক যে ফ্লোরে ভর্তি আছেন সেখানেই পাহারা দিচ্ছেন। গীতাঞ্জলি বলেন, ‘এটি কোনও চিকিৎসা ব্যবস্থা নয়। বেআইনি ভাবে আটকে রাখা হয়েছে। তাই সোনমের স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হওয়ার আগেই তাঁকে অন্য হাসপাতালে সরানোর জন্য হাইকোর্টে জরুরি শুনানির প্রার্থনা করছি।’

    প্রসঙ্গত, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনশনে বসেছিসেন সোনম ওয়াংচুক। ২৮ জুন থেকে অনশনে বসেছেন তিনি।

    FAQ

    সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো অভিযোগ করেছেন, সাফদারজং হাসপাতালে তাঁকে বেআইনি ভাবে আটকে রাখা হয়েছে। এই অভিযোগ নিয়ে তিনি দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছেন।

    তাঁর অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতি হয়েছে এবং প্রকৃত মেডিক্যাল রিপোর্ট গোপন রাখা হয়েছে। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে চান।

    হাসপাতাল জানিয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে তিনি চিকিৎসা নিতে রাজি নন বলে হাসপাতালের দাবি।

    তিনি দাবি করেছেন, সোনমের শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে গেলেও সরকারি বুলেটিনে তা সম্পূর্ণভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্রও দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন।

    নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে তিনি অনশন শুরু করেন।

  • Link to this news (এই সময়)