• ২ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে ইতিহাস, বিশ্বকাপে প্রথম গোলেই বিরল নজির, ৯২ বছরের পুরনো তালিকায় রাইস
    এই সময় | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সকে (France) ৬-৪ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে ইংল্যান্ড (England)। তবে এই রুদ্ধশ্বাস ১০ গোলের মহারণ শুধু ফলাফলের জন্য নয়, ডেক্লান রাইসের (Declan Rice) অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্যও ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন রাইস। গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করেছেন তিনি। ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিশেষ এক তালিকাতেও নিজের নাম তুলে ফেলেছেন রাইস।

    মায়ামিতে ম্যাচের মাত্র ২ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের মাথায় ফ্রান্সের জালে বল জড়িয়ে দেন রাইস। এটি ছিল বিশ্বকাপে তাঁর প্রথম গোল। আর সেই গোলই তাঁকে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে দেয়। বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের ইতিহাসে এটি তৃতীয় দ্রুততম গোল। তাঁর আগে রয়েছেন শুধু তুরস্কের হাকান শুকুর এবং জার্মানির আর্নস্ট লেহনার।

    ১০ গোলের মহারণে ভাঙল ৬৪ বছরের পুরনো বিশ্বকাপ রেকর্ড, ইতিহাসে ইংল্যান্ড-ফ্রান্স ম্যাচ

    সবচেয়ে দ্রুত গোলদাতাদের তালিকা:

    হাকান শুকুর (তুরস্ক) — ১১ সেকেন্ড (২০০২)
    আর্নস্ট লেহনার (জার্মানি) — ২৫ সেকেন্ড (১৯৩৪)
    ডেক্লান রাইস (ইংল্যান্ড) — ২ মিনিট ১৪ সেকেন্ড (২০২৬)

    রাইসের এই গোলই ম্যাচের সুর বেঁধে দেয়। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড এবং প্রথমার্ধেই ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

    রাইস শুধু গোলই করেননি। ম্যাচের ১৮ মিনিটে তাঁর নেওয়া কর্নার থেকে হেডে গোল করেন এজ়রি কোন্সা। সেই অ্যাসিস্টের সুবাদে আরও একটি বিশেষ কীর্তি গড়েন ডেক্লান রাইস। বিশ্বকাপের এক আসরে কর্নার থেকে সরাসরি দু’টি অ্যাসিস্ট করা প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হলেন তিনি, ডেভিড বেকহ্যামের পর। ২০০২ বিশ্বকাপে বেকহ্যাম এই কীর্তি গড়েছিলেন। প্রায় ২৪ বছর পরে সেই নজির স্পর্শ করলেন রাইস।

    এর পাশাপাশি বিশ্বকাপের এক ম্যাচে গোল এবং অ্যাসিস্ট করা মাত্র ষষ্ঠ ইংলিশ ফুটবলারও হয়ে গেলেন তিনি। এই তালিকায় রয়েছেন রজার হান্ট, জো কোল, রহিম স্টার্লিং, জুড বেলিংহ্যাম, হ্যারি কেন এবং এখন ডেক্লান রাইস।

    এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন বুকায়ো সাকা। রাইসও গোল করেন। ফলে আর্সেনালের দুই ফুটবলার পুরুষদের একই বিশ্বকাপের ম্যাচে গোল করার বিরল নজিরও হয়। এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের মার্ক ওভারমার্স এবং ডেনিস বার্গক্যাম্প একই ম্যাচে গোল করেছিলেন। প্রায় তিন দশক পরে সেই তালিকায় জায়গা করে নিলেন রাইস ও সাকা।

    তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের সাফল্যই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে রাইসের কাছে। তাঁর গোল ও অ্যাসিস্টের হাত ধরেই ইংল্যান্ড ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ৬-৪ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।

    প্রশ্ন: ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কত মিনিটে গোল করেছিলেন ডেক্লান রাইস?
    উত্তর: ম্যাচের ২ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে।

    প্রশ্ন: এটি কি রাইসের প্রথম বিশ্বকাপ গোল?
    উত্তর: হ্যাঁ, এটি ছিল তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ গোল।

    প্রশ্ন: তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের ইতিহাসে এটি দ্রুততম গোলের তালিকায় কত নম্বর রয়েছে?
    উত্তর: তৃতীয় দ্রুততম গোল।

    প্রশ্ন: ম্যাচে রাইস কি অ্যাসিস্টও করেছিলেন?
    উত্তর: হ্যাঁ, তাঁর কর্নার থেকে এজ়রি কোন্সা গোল করেছিলেন।

    প্রশ্ন: বিশ্বকাপে এক ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট করা কততম ইংলিশ ফুটবলার রাইস?
    উত্তর: ষষ্ঠ।

    প্রশ্ন: ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত কত গোলে জেতে?
    উত্তর: ৬-৪ গোলে।

    মায়ামির ১০ গোলের অবিশ্বাস্য ম্যাচে অনেক নায়ক থাকলেও ডেক্লান রাইস ছিলেন অন্যতম প্রধান চরিত্র। প্রথম বিশ্বকাপ গোল, একটি অ্যাসিস্ট এবং একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড— এক ম্যাচেই নিজের নাম লিখিয়ে ফেললেন ইংল্যান্ড ও বিশ্বকাপের ইতিহাসে। ব্রোঞ্জ পদকের সঙ্গে তাই এই ম্যাচ রাইসের কেরিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
  • Link to this news (এই সময়)