• একটা 'প্রাইভেট নম্বর' আর মুর্শিদাবাদের ভয়াবহ দুর্ঘটনার নেপথ্যের 'বড়' কারণ! দোষ কার?
    News18 বাংলা | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণের কাছে ভয়াবহ ট্রেন-পুলকার দুর্ঘটনার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই উঠে আসছে রেল নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ। তদন্তে প্রাথমিকভাবে যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা হল—’প্রাইভেট নম্বর’ দেওয়ার পরেও কেন লেভেল ক্রসিং গেট খোলা হয়েছিল? রেলের একাংশের প্রাক্তন আধিকারিকদের মতে, নন-ইন্টারলকিং লেভেল ক্রসিংয়ে যানজট এড়াতে অনেক সময় গেটম্যান নিয়ম ভেঙে সাময়িকভাবে গেট খুলে দেন। এই ‘শর্টকাট’ পদ্ধতিই বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে।

    কর্ণসুবর্ণ স্টেশন মাস্টার ধর্মেন্দ্র কুমার তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, আপ লাইনে নবদ্বীপধাম–বালুরঘাট এক্সপ্রেস এবং ডাউন লাইনে নিমতিতা–কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলাচলের বিষয়ে গেটম্যান অনুপ কর্মকারকে আগেই জানানো হয়েছিল। নিয়ম মেনে ‘প্রাইভেট নম্বর’-ও দেওয়া হয়েছিল, যা নন-ইন্টারলকিং গেটে ট্রেন চলাচলের আগে গেট বন্ধ রাখার অনুমতি ও নির্দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

    অন্যদিকে, গেটম্যান অনুপ কর্মকারের দাবি, আপ ট্রেন চলে যাওয়ার পরে ডাউন লাইনের সিগন্যাল লাল ছিল। তাঁর ধারণা হয়েছিল, প্যাসেঞ্জার ট্রেন আসতে এখনও পাঁচ থেকে সাত মিনিট সময় রয়েছে। সেই হিসাবেই তিনি গেট খুলেছিলেন। তাঁর আরও দাবি, স্টেশন থেকে তাঁকে ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়নি। তবে তদন্তকারীদের বক্তব্য, গেটম্যান নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি প্রাইভেট নম্বর পেয়েছিলেন। ভারতীয় রেলের Conditions of Granting Line Clear নিয়ম অনুযায়ী, প্রাইভেট নম্বর দেওয়ার পর গেট খোলা সম্পূর্ণ নিয়মবিরুদ্ধ এবং গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ। ওই অবস্থায় হোম সিগন্যাল পর্যন্ত রেলপথ সম্পূর্ণ নিরাপদ ও বাধামুক্ত থাকার কথা।

    দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই একটি বাঁক থাকায় ট্রেনচালকের পক্ষে আগেভাগে খোলা গেট বা গেটের উপর দাঁড়িয়ে থাকা পুলকার দেখতে পাওয়া কার্যত সম্ভব ছিল না। ফলে জরুরি ব্রেক কষলেও সংঘর্ষ এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    রেলের সিগন্যালিং ব্যবস্থায় স্টার্টার, অ্যাডভান্সড স্টার্টার, ডিস্ট্যান্ট ও হোম সিগন্যাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্টার্টার সিগন্যাল সবুজ হলে স্টেশন ছাড়ার অনুমতি মেলে। অ্যাডভান্সড স্টার্টার সবুজ থাকলে ট্রেন পরবর্তী অংশে এগিয়ে যেতে পারে। ডিস্ট্যান্ট সিগন্যাল সবুজ মানে পরবর্তী স্টেশনের হোম সিগন্যালও সবুজ এবং লাইন ক্লিয়ার। ডিস্ট্যান্ট সিগন্যাল হলুদ হলে চালককে গতি কমিয়ে হোম সিগন্যালের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। ডিস্ট্যান্ট সিগন্যাল লাল থাকলে ট্রেন এগোনোর অনুমতি থাকে না। এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্যই হল, লাইন সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকলেই ট্রেনকে এগোনোর অনুমতি দেওয়া।

    প্রাক্তন রেল আধিকারিকদের একাংশের অনুমান, গেটম্যান হয়তো ভেবেছিলেন পুলকারটি ট্রেন আসার আগেই লেভেল ক্রসিং পার হয়ে যাবে। সেই কারণেই তিনি নিয়ম উপেক্ষা করে গেট খুলে দেন। তবে এটি এখনও তদন্তাধীন বিষয় এবং চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টের আগে এটিকে নিশ্চিত কারণ বলা যাচ্ছে না। তদন্তে আরেকটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে গেটের গুমটিতে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা অচল থাকা। ফলে ঘটনাক্রম যাচাইয়ে তদন্তকারীদের প্রত্যক্ষ ভিডিও প্রমাণের সুবিধা মিলছে না।
  • Link to this news (News18 বাংলা)