ততক্ষণে তিনজনেই শেষ! ছেলেটার চিৎকার শুনে ছুটে গিয়েছিলেন, ‘দেখি সিরাজের হাতে তার জড়িয়ে..’
News18 বাংলা | ১৯ জুলাই ২০২৬
হলদিয়া মর্মান্তিক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে একই পরিবারের তিনজনের। বাবা-মা সহ সন্তানের চরম পরিণতি। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভবানীপুর থানা এলাকায়। জানা গিয়েছে নতুন বাড়িতে বিদ্যুতের কাজ করতে গিয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে শনিবার সন্ধ্যার পরে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হলদিয়ার ভবানীপুর থানার পুলিশ।
ঘটনার আকস্মিকতায় এখনও স্তব্ধ এলাকার মানুষ৷ কী করে এমন ঘটনা ঘটে গেল ঠাওর করতে পারছেন না কেউই৷ স্থানীয় প্রতিবেশী শেখ আনোয়ার বলেন, “আমরা ছেলেটার চিৎকার শুনে ছুটে যাই। দেখি সিরাজের হাতে ইলেকট্রিকের তার জড়িয়ে আছে। পাশেই তাঁর স্ত্রী ও ছেলে পড়ে রয়েছে। ঘরের মেইন সুইচ অফ করে সবাইকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে পাঠালে প্রত্যেককেই মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।’’
তিনি জানান, নতুন বাড়িতে, প্রথমে সিরাজ ইলেকট্রিকের কাজ করতে গিয়েছিল। সে-ই প্রথমে জড়ায় ইলেকট্রিক লাইনের সঙ্গে। এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আছে স্থানীয় বিধায়ক সুভাষ পাঁজা। তিনি জানান, “মর্মান্তিক দুঃখজনক ঘটনায় একই পরিবারের সবাই মারা গেল। পুলিশ তদন্ত করছে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া ভবানীপুর থানার কুমারপুর গ্রামে শনিবার সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যায় একই বাড়ির তিনজন। নতুন নির্মীয়মাণ বাড়িতে বৈদ্যুতিক আলো জ্বালানোর জন্য, বিদ্যুতের সংযোগের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় সবাই। বাড়ির বিদ্যুতের সংযোগের কাজ পরিবারের সদস্যরাই করছিলেন। সেই সময় আচমকাই শর্ট সার্কিট হয়। প্রথমে পরিবারের এক সদস্য বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে তাঁকে বাঁচাতে ছুটে যান অপর দু’জন। কিন্তু তারাও বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর জখম হন।
বিদ্যুৎপৃষ্ট হওয়ার পর ওই ব্যক্তিটির চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রতিবেশীরা। প্রতিবেশীরাই তাদের উদ্ধার করে। হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তিনজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। জানা যায় এই ঘটনায় ওই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান তিনজনেই মারা গিয়েছে। মৃতরা হলেন সিরাজ মল্লিক (৪৩), তাঁর স্ত্রী আলিয়া বিবি (৪১) এবং তাঁদের ১২ বছরের সন্তান।
এই বিদ্যুৎপৃষ্টের ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে ভবানীপুর থানার পুলিশ। পুরো ঘটনা আর তদন্ত শুরু করেছে। কী কারণে শর্ট সার্কিটের ঘটনা ঘটল এবং বিদ্যুতের কাজের সময় কোনও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘিত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় কুমারপুর গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একসঙ্গে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে এলাকাবাসীও স্তম্ভিত। প্রসঙ্গত বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা বারবার সাধারণ মানুষকে সচেতন করা সত্ত্বেও এদিনের এই দুর্ঘটনা প্রমাণ করে আসলে সাধারণ মানুষ বিদ্যুতের বিষয়ে অনেকটাই অসচেতন। তারই ফল একই পরিবারের তিনজনের এই মর্মান্তিক পরিণতি।