• ‘দলটাকে দালাল শেষ করে দিল’, তোপ দেগে তৃণমূল ছাড়লেন তপন দাশগুপ্ত
    এই সময় | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ফের ধাক্কা তৃণমূলে। এ বার দল ছাড়লেন সপ্তগ্রামের প্রাক্তন বিধায়ক তপন দাশগুপ্ত। আর দল ছেড়েই তপনের তোপ, ‘দলটাকে দালাল শেষ করে দিল।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী ছিলেন তপন। প্রায় ৪০ বছরের সম্পর্ক। ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে জয়ের পরে মমতার ক্যাবিনেটে কৃষি বিপণন মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। যদিও ২০২৬ সালের ভোটে সেই তপনকে টিকিট দেয়নি দল। একের পরে এক পুরনো সতীর্থ যখন মমতার সঙ্গ ছাড়ছেন, সেই ভিড়ে নাম লেখালেন তপন দাশগুপ্তও। তাঁর কথায়, ‘সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের ত্রুটির কারণেই আজ দলটা শেষ হয়ে গিয়েছে। রাজনীতিটাকে কেউ যদি ব্যবসায় পরিণত করবে বলে মনে করে, সেই দলের অবস্থা এ রকমই হবে। আজ থেকে আমি দলের সমস্ত পদ ছাড়লাম। তবে এখনই অন্য দলে যাব কি না সেটা বলতে পারব না। দলের কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে জানাব।’

    সপ্তগ্রামের প্রাক্তন বিধায়ক তপন দাশগুপ্ত দল ছাড়লেন। তাঁর কথায়, ‘সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের ত্রুটির কারণেই দলটা শেষ হয়ে গিয়েছে এবং রাজনীতিকে যদি কেউ ব্যবসায় পরিণত করে, সেই দলের অবস্থা এ রকমই হয়।’

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী তপন দাশগুপ্ত তৃণমূল জমানায় তিন বারের বিধায়ক ও দু'বারের মন্ত্রী হয়েছেন, ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে জয়ের পরে মমতার ক্যাবিনেটে কৃষি বিপণন মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। তিনি তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি থেকে ফুরফুরা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, পশুপালন দপ্তর ও ফরেস্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানও ছিলেন।

    তপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, রাজনীতি তিনি ছাড়ছেন না, সক্রিয় ভাবেই রাজনীতিতে থাকছেন। তবে এখনই তৃণমূলের কোনও শিবিরে বা অন্য কোনও দলে যোগ দেওয়া বা না দেওয়া নিয়ে কিছু বলবেন না।

    আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, এবং এই ভাগাভাগিতে কার্যত শূন্য হাতে বসে রয়েছে কালীঘাট-শিবির। সাংসদ, বিধায়কদের সিংহভাগই শিবির বদলেছেন। দলের বেশিরভাগ সাংসদ দিল্লিতে গিয়ে NCPI-এর মতো নতুন দলে নাম লিখিয়েছেন, আর বিধায়করা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে 'আসল তৃণমূল'মুখী হয়েছেন।

    এর পরে জল গড়িয়েছে বহু দূর। আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই ভাগাভাগিতে কার্যত শূন্য হাতে বসে কালীঘাট-শিবির। সাংসদ, বিধায়কদের সিংহভাগই শিবির বদলেছে। একের পরে এক দাপুটে নেতা দল ছেড়েছেন। দিল্লিতে গিয়ে NCPI-এর মতো নতুন দলে নাম লিখিয়েছেন দলের বেশিরভাগ সাংসদরা। বিধায়করা আবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘আসল তৃণমূল’মুখী।

    এই পরিস্থিতিতে এ বার মমতার হাত ছাড়লেন তাঁর ৪০ বছরের রাজনৈতিক সতীর্থ তপন দাশগুপ্ত। তৃণমূল জমানায় তিন বারের বিধায়ক, দু’বারের মন্ত্রী হয়েছেন তিনি। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি থেকে ফুরফুরা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, পশুপালন দপ্তর, ফরেস্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানও ছিলেন।

    দলের নেতারা বলতেন, লড়াকু তপন হুগলি জেলা তৃণমূল সভাপতি থাকাকালীন ঘাসফুলের সংগঠন সাজিয়েছিলেন মনের মতো করে। জেলার প্রায় সব ব্লকেই এখনও তাঁর অনুগামীরা রয়েছেন। তবে এ বারের ভোটে টিকিট না পাওয়ার অভিমান ছিল তাঁর। যদিও এ নিয়ে দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। সম্প্রতি শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি করা হয়েছে অসিত মজুমদারকে। এ সবের মধ্যেই তপন দাশগুপ্তের দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত।

    তপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘যাঁরা পুরনো কর্মী, তাঁদের ছেঁটে দেওয়া হলো। সে কারণেই পশ্চিমবাংলায় তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। এ বারে আমি সপ্তগ্রাম বিধানসভায় টিকিট চাইনি, পাণ্ডুয়া বিধানসভা থেকে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে দল টিকিট দেয়নি। সেখানেও ভরাডুবি হয়েছে। আমাকে টিকিট না দেওয়ায় মানুষের খারাপ লেগেছিল। এর ফল পেয়েছে তৃণমূল।’

    তপন দাশগুপ্ত অবশ্য জানিয়েছেন, রাজনীতি তিনি ছাড়ছেন না। সক্রিয় ভাবেই রাজনীতিতে থাকছেন। তবে এখনই তৃণমূলের কোনও শিবিরে যোগ দেওয়া বা না দেওয়া নিয়ে কিছু বলবেন না। তাঁর কথায়, ‘তৃণমূল দলের মধ্যে যে ভাগাভাগি চলছে, সেখানে দাঁড়িয়ে এই দল করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। মানুষের আস্থা, বিশ্বাস আমরা হারিয়েছি।’

    তপন দাশগুপ্ত কে?

    তিনি সপ্তগ্রামের প্রাক্তন বিধায়ক, তৃণমূল জমানায় তিন বারের বিধায়ক ও দু'বারের মন্ত্রী, এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় ৪০ বছরের রাজনৈতিক সঙ্গী।

    তিনি কেন তৃণমূল ছাড়লেন?

    তৃণমূল দলের মধ্যে যে ভাগাভাগি চলছে, সেখানে দাঁড়িয়ে এই দল করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন।

    তিনি কি অন্য কোনও দলে যোগ দিচ্ছেন?

    তিনি জানিয়েছেন, রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন, তবে অন্য কোনও শিবিরে যোগ দেওয়া বা না দেওয়া নিয়ে এখনই কিছু বলবেন না। দলের কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

    তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি কী?

    তৃণমূল কংগ্রেস আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছে। বেশিরভাগ সাংসদ NCPI-র মতো নতুন দলে যোগ দিয়েছেন এবং বিধায়করা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে 'আসল তৃণমূল'মুখী হয়েছেন, ফলে কালীঘাট শিবির কার্যত শূন্য হাতে।

    তপন দাশগুপ্ত তৃণমূলের কোন কোন পদে ছিলেন?

    তিনি তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি, হুগলি জেলা তৃণমূল সভাপতি ছাড়াও ফুরফুরা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, পশুপালন দপ্তর ও ফরেস্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান পদে ছিলেন।

  • Link to this news (এই সময়)