Big Breaking: আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস ভাঙায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন করে কোনও পদক্ষেপ নয় বলেই জানানো হয়েছে। এই নির্দেশ দেন বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী। মামলায় যতক্ষণ না পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া হবে, ততক্ষণ স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে। এ দিন আদালত জানায়, রাজ্য এ নিয়ে সম্পূর্ণ তথ্য দেবে।
আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস ভাঙায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী জানিয়ে দেন, মামলায় যতক্ষণ না পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া হবে, ততক্ষণ স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে এবং নতুন করে কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ের একাংশ অবৈধ বলে দাবি করে শনিবার জেলা প্রশাসন বুলডোজ়ার নামায় এবং রবিবারও সকাল থেকে ভাঙার কাজ চলছিল। এর জেরে রবিবারই ই-মেল মারফত আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করা হয় এবং সে দিনই শুনানির আর্জি জানানো হলে ছুটির দিনেই বসে আদালত।
অভিষেকের আইনজীবী কিশোর দত্ত সওয়াল করেন, ৮ জুলাই তাঁদের জানানো হলেও পঞ্চায়েত আইনের বিধি মেনে যথাযথ নোটিস, শুনানির সুযোগ বা অভিযোগের বিবরণ দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে রাজ্যের তরফে এজি সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, ৩০ জুন নোটিস দেওয়া হয়েছিল এবং কী কী প্রভিশন রয়েছে তাও জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে কার্যালয়, তার একাংশ অবৈধ বলে দাবি করে শনিবার জেলা প্রশাসন বুলডোজ়ার নামায়। ভাঙা হয় অফিসের একটা অংশ। রবিবারও সকাল থেকে ভাঙার কাজ চলছিল। এ দিকে রবিবারই ই-মেল মারফত আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করা হয়। এ দিনই যাতে শুনানি হয়, সে আর্জিও জানানো হয়। এর পরে ছুটির দিনেই বসে আদালত।
হাইকোর্ট এ দিন প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা বজায়ের নির্দেশ দিলেও ওই দলীয় অফিসের জিনিস যা পুলিশ সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে, লুটপাট চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ, তা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যে আর্জি জানানো হয় তা নাকচ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।
এ দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে সওয়াল করেন, ৮ জুলাই তাঁদের জানানো হয়। প্রয়োজনীয় সময়ও দেওয়া হয়নি। এমনকী তার পরে আর কিছু জানানো হয়নি, ভাঙা শুরু হয়েছে। কিশোর দত্ত বলেন, ‘পঞ্চায়েত আইন দেখুন। Statutory Scheme অনুযায়ী, মালিককে আগে নোটিস দিতে হয়। একজন ডিরেক্টরকে তা দেওয়া হয়। শুনানির সুযোগ দিতে হয়। আমার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আমি জানিই না। তার ভিত্তিতে বক্তব্য রাখারও সুযোগ দেওয়া হয়নি।’
বিচারপতি অর্ডার কপি দেখতে চাইলে কিশোর দত্ত জানান, তাঁকে দেওয়া হয়নি। এই ভাঙার কাজ পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে করা হচ্ছে। অন্যদিকে এজি সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, ৩০ জুন নোটিস পেয়েছে। কী কী প্রভিশন আছে, তা জানানো হয়েছে।
বিচারপতি বলেন, ‘কী প্রভিশন দেওয়া হয়েছিল তা আমার কাছে নেই। আপনারা অর্ডারটা কবে দেখাবেন? আমি এটি রেগুলার বেঞ্চে পাঠাচ্ছি। ততদিন ভাঙা বন্ধ রাখুন।’
জেলা পরিষদের আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, ‘অর্ডার কি দেওয়া হয়েছিল আবেদনকারীকে? অর্ডার কপি আছে এখনও?’ তিনি জানান, তা দেওয়া হয়েছে। যদিও আইনজীবী কিশোর দত্ত সওয়াল করেন, ‘ইন্সপেকশন কখন হলো, কবে হলো, আমার উপস্থিতি ছিল কি না কিছু উল্লেখ নেই। এসডিওকে ভাঙতে বলা হয়। এই ক্ষমতা তাঁদের আছে?’ এর পরেই প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা বজায়ের কথা বলেন বিচারপতি।
হাইকোর্ট কী নির্দেশ দিয়েছে?
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভাঙার প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
সরিয়ে নেওয়া জিনিসপত্র কি ফেরত দেওয়া হবে?
না, অফিস থেকে পুলিশ সরিয়ে নেওয়া জিনিসপত্র ফেরানোর আর্জি কলকাতা হাইকোর্ট নাকচ করেছে।
মামলাটি এখন কোথায় যাচ্ছে?
বিচারপতি জানিয়েছেন, মামলাটি রেগুলার বেঞ্চে পাঠানো হচ্ছে।
অভিষেকের আইনজীবীর মূল অভিযোগ কী ছিল?
কিশোর দত্তের দাবি, পঞ্চায়েত আইনের নিয়ম মেনে যথাযথ নোটিস, অভিযোগের বিবরণ বা শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়নি।
রাজ্যের তরফে কী যুক্তি দেওয়া হয়েছে?
এজি সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, ৩০ জুন নোটিস দেওয়া হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট প্রভিশনও জানানো হয়েছিল।
এই শুনানি কী ভাবে ছুটির দিনে হলো?
রবিবার ই-মেল মারফত আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে জরুরি আবেদন করা হলে সে দিনই শুনানির আর্জি মঞ্জুর হয় এবং ছুটির দিনেই আদালত বসে।