• অভিষেকের অফিস গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগেই বিরাট আপডেট!
    আজকাল | ১৯ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির আমতলার কার্যালয় ঘিরে শনিবার দিনভর চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। শনিবার দফায় দফায় ফাঁকা করা হয়েছে কার্যালয়। মিলেছে ট্রাঙ্ক, নথি, ল্যাপটপ, প্রিন্টার। ফুটপাথ দখল করে থাকা অংশ ভেঙে ফেলাও হয়েছে শনিবারেই। রবিবারেও বেশকিছু অংশ ভাঙার সম্ভাবনা। তার মাঝেই এই ঘটনায় আদালতেও গিয়েছেন সাংসদ, তথ্য তেমনটাই। সূত্রের খবর,কার্যালয়টি যে জমির উপর নির্মিত হয়েছে, সেই জমি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ নামে একটি সংস্থার নামে কেনা হয়েছিল। সংস্থার আইনজীবীর পক্ষ থেকে জরুরি শুনানির আর্জি জানানো হয়েছিল। একইসঙ্গে তথ্য, আর্জি মেনে, রবিবারেই, ছুটির দিনে দ্রুত শুনানি হতে পারে এই মামলার। 

    শনিবার থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে আমতলায়। প্রশাসনের দাবি, অভিষেক ব্যানার্জির এই কার্যালয়টি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বৈধ নির্মাণ পরিকল্পনা ছাড়াই তৈরি করা হয়েছিল। ১৫ জুলাই শুনানির জন্য পরপর দু'টি নোটিস পাঠানো হলেও, কেউ হাজির না হওয়ায় শনিবার বেআইনি অংশ ভাঙার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এরপর তিনটি জেসিবি দিয়ে ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা শুরু হয়। অভিষেক শনিবারেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেছিলেন, ঘটনায় হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্ট যতদূর যাওয়া যায়, যাবেন। 




    রবিবার নিজের দলীয় কার্যালয়ের সামনের বিক্ষিপ্ত ভাঙচুরের ভিডিও দিয়ে অভিষেক লিখেছেন, 'বাংলায় এখন চরম অরাজকতা চলছে। সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর বা উচ্ছেদ অভিযানকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেওয়া সত্ত্বেও, গতকাল আমতলায় আমার লোকসভা কেন্দ্রের কার্যালয়টি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।'

    বিজেপি-পুলিশকে নিশানা করে অভিষেক লিখেছেন, 'ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ল্যাপটপ-প্রিন্টার, নথিপত্র, টেবিল, চেয়ার ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভর্তি ট্রাঙ্ক বা বাক্সগুলো নিয়ে যাচ্ছে। এটি কোনও সাধারণ উচ্ছেদ অভিযান ছিল না' ঘটনাটিকে 'চুরি' বলতে চেয়েছন সাংসদ। লিখেছেন, 'আইনের শাসনের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়েছে এবং বিষয়টি হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও এই কাজ করা হয়েছে। যাদের কাজ আইন সমুন্নত রাখা, তারাই আজ আইনভঙ্গকারী হয়ে উঠেছে।' 

    উল্লেখ্য, শনিবারের উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার পর রবিবারও দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ মোড়, কার্যালয় চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের কড়া নজরদারি চলছে। যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে টহলদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

    রবিবার সকাল থেকে এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও নিরাপত্তার কড়াকড়ি স্পষ্ট। পুলিশ সূত্রে খবর, পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। কোনও গুজব ছড়ানো বা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

     
  • Link to this news (আজকাল)