আমতলার অফিসে বুলডোজার, দ্রুত শুনানি চেয়ে হাইকোর্টে অভিষেকের সংস্থা 'লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস'
আজ তক | ১৯ জুলাই ২০২৬
আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়টি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং কোনও অনুমোদিত প্ল্যান ছাড়াই গড়ে তোলা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুনানির জন্য জোড়া নোটিসও পাঠানো হয়। সেই রেশ ধরেই শনিবার আমতলার ওই কার্যালয়ের সামনে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। অভিষেকের অফিসের সামনে বুলডোজারও নিয়ে আসা হয়। বুলডোজ়ার চালিয়ে আমতলার দফতর ভাঙচুর করা হয়েছে, এই অভিযোগ জানিয়ে এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’।
আমতলায় অভিষেকের কার্যালয়ে বুলডোজার অ্যাকশনের ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডস্ প্রাইভেট লিমিটেড। সূত্রের খবর, আমতলার ওই কার্যালয়ের মালিক লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডস্ প্রাইভেট লিমিটেড। রবিবার জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি জানানো হয়েছে আদালতে। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে এই শুনানি হতে চলেছে।
অভিযোগ উঠেছে যে, জমির বৈধ দলিল থাকা সত্ত্বেও বিজেপি নেতাদের উপস্থিতিতে অফিসটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে একটি জরুরি আবেদন করা হয়েছে। হাইকোর্ট সূত্রে জানা গেছে, বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে দুপুর ১টার দিকে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য যে, গতকাল কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীকে একটি চিঠি লেখা হয়। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই অমতলা দলের কার্যালয়ে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস এর আগেও হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। যদিও সেই মামলাটি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে তালিকাভুক্ত ছিল, কিন্তু কোনও শুনানি হয়নি। গতকাল কার্যালয়টি ভেঙে ফেলার পর, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস এখন আবার জরুরি ভিত্তিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় বৈধ প্ল্যান-নথি ছাড়াই আমতলার কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। শনিবার সকালেই অভিষেকের কার্যালয় ঘিরে ফেলে পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনী। গার্ডরেলে ঘিরে ফেলা হয় গোটা এলাকা। বেলা বাড়তেই সেখানে এন্ট্রি নেয় ৩টি বুলডোজার। শুরু হয় কার্যালয় ভাঙার কাজ। কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে পুলিশ। ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, 'এই কার্যালয় ছিল শাহজাহান, জাহাঙ্গিরের মতো গুন্ডাদের ঘাঁটি। এখান থেকে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছিল, সাত দিনের ব্যবধানে ওই কার্যালয় নিয়ে দু’টি নোটিস দেওয়া হয়। নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈধ প্ল্যান ছাড়াই কার্যালয়টি নির্মাণ হয়েছে। সেই সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদ করতেই অভিষককে জেলা প্রশাসনের দফতরে হাজিরা দিতেও বলা হয়েছিল। নোটিসে এও উল্লেখ আছে, যে জমিতে সাংসদের কার্যালয়টি নির্মাণ হয়েছে, তা লিপস এন্ড বাউন্ডসের নামে কেনা হয়েছিল। সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। পরপর দু’বার নোটিসে সাড়া না দেওয়াতেই বড় পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কার্যালয় ভাঙার পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন আইনি উপায়ে লড়াই করবেন। তারপরই রবিবার আদালতে শুনানির আবেদন করা হয়।