• কার আমন্ত্রণে কলকাতায়? বিজেপি নয়, মুখ খুললেন তসলিমা
    আজকাল | ২০ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রায় ১৯ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরছেন তসলিমা নাসরিন। ফেসবুকে তাঁর পোস্ট ভাইরাল হতেই ফের খবরের শিরোনামে তাঁর রাজ্যে ফেরার খবর। নিজের দ্বিতীয় বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ১ আগস্ট রবীন্দ্র সদনে উপস্থিত থাকবেন তিনি। কিন্তু কাঁদের আমন্ত্রণে তিনি কলকাতা আসতে চলেছেন, তা নিয়ে চলছিল জোর তরজা। বর্তমানে বিজেপি সরকারের ডাকে সাড়া দিয়েই কি তিনি কলকাতা ফিরবেন? এ বার সে বিষয়ে মুখ খুললেন বিতর্কিত লেখিকা। রবিবার বিকেলে এ নিয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট লিখেছেন তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে।

    এ দিন সমাজমাধ্যমের পোস্টে তিনি প্রথমেই স্পষ্ট করে দেন তাঁকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে 'সেকুলার মিশন' নামক একটি সংগঠন। যার কর্ণধার একজন প্রগতিশীল মুসলিম ওসমান গণি মল্লিক। তাঁর ফেরা নিয়ে বিতর্ক ঘিরে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, 'আমাকে কি বিজেপি কলকাতায় নিয়ে যাচ্ছে? না। আমাকে কি পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিয়ে যাচ্ছে? না।পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচিত সরকার শুধু আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে। আমি যে রাজ্যেই যাই, সেখানে যে রাজনৈতিক দলেরই সরকার থাকুক না কেন, সেই সরকারই আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। এটাই স্বাভাবিক প্রশাসনিক দায়িত্ব।"

    বিজেপির আমন্ত্রণে তাঁর রাজ্যে ফেরা নিয়ে ইতিমধ্যেই বামেদের কটাক্ষের মুখে পড়েছেন তসলিমা। তারই জবাব দিয়ে তসলিমা লেখেন, "পশ্চিমবঙ্গের কিছু বাম নেতা আমাকে দোষ দিচ্ছেন—আমি কেন কলকাতায় যাচ্ছি! তাঁরা আমাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়িয়েছিলেন; এখন আমি সেই রাজ্যে পা রাখা মানেই নাকি আমি হিন্দুত্ববাদী, আমি বিজেপি আর এস এস।আমি সিপিআইএম সরকারের আমন্ত্রণে বহুবার কেরালায় গিয়েছি। সেখানকার বাম নেতারা আমাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন, সম্মান জানিয়েছেন, আমার জন্য জেড প্লাস নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন। তখন কলকাতার এই বাম নেতারা কি আমাকে ‘বামপন্থী’ বলে গালি দিয়েছিলেন, নাকি আনন্দে চুমু খেয়েছিলেন? তখন তো তাঁরা দিব্যি চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন। আমার বেলায় তাঁদের চোখ কখনও খোলে কি? আমার কলকাতায় যাওয়া নিয়ে এই মিথ্যে প্রচার কেন? ১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর মাত্র দু’দিনের জন্য কলকাতায় যাচ্ছি—তাতেই তাঁদের গায়ে জ্বালা ধরছে!...এই বামরা কি কোনও দিন মানুষ হবেন না? আর কত দিন তাঁরা প্রগতিশীলতার মুখোশ পরে জিহাদিদের ভাষায় কথা বলে যাবেন?"

    বামপন্থী হোক বা তৃণমূল সরকার, কোন আমলেই তাঁর ঠাঁই হয়নি কলকাতায়। ঢুকতে দেওয়া হয়নি পশ্চিমবঙ্গে। তাঁর দাবি, সেই সময় তাঁর মেগাসিরিয়ালের টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে। তাঁর বইয়ের প্রকাশ অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। তখন বাংলার তথাকথিত প্রগতিশীলেরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে একটি শব্দও কেউ খরচ করেননি।

    তিনি জানান, তাঁর প্রগতিশীল মনোভাব সকলে মেনে নিতে পারেননা। লেখেন, "আসলে আমরা যারা মুসলিম সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোয় আনতে চাই, মুসলিমদের শিক্ষিত ও বিজ্ঞানমনস্ক করতে চাই, ধর্মান্ধতা, অজ্ঞতা ও বর্বরতা থেকে মুক্ত করতে চাই, নারীর সমানাধিকার ও মানবাধিকার চাই, বৈষম্যমূলক ইসলামী আইনের বদলে সমানাধিকারের ভিত্তিতে প্রণীত আধুনিক আইন প্রতিষ্ঠা করতে চাই—বাম নেতাদের অনেকেই তা সহ্য করতে পারেন না।

    একইসঙ্গে বলেন, "তাঁরা চান মুসলিম সমাজ চোদ্দশো বছর আগের নারীবিদ্বেষী, ধর্মান্ধ ও অসহিষ্ণু সমাজ হিসেবেই পড়ে থাকুক। মুসলিম সমাজের সংস্কার যাঁরা চান, তাঁদের তাঁরা শত্রু মনে করেন; এবং আমরা সকলেই জানি ইসলামী মৌলবাদীদের তুষ্ট করতে তাঁদের কোনও দ্বিধা নেই।..."

     
  • Link to this news (আজকাল)