একুশের শহীদ পরিবারকে ঘিরে টানাপোড়েন, তবু মমতার সঙ্গেই থাকার বার্তা হুগলির শহীদ পরিবারের
News18 বাংলা | ২০ জুলাই ২০২৬
একুশে জুলাইয়ের শহীদ দিবসকে ঘিরে এবার রাজনৈতিক লড়াই পৌঁছে গেল শহীদ পরিবারের দোরগোড়ায়। কংগ্রেস, কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত তৃণমূল—তিন পক্ষই ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ অসীম দাস-এর পরিবারকে নিজেদের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাল। তবে সব আমন্ত্রণের মধ্যেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই আস্থা রাখার বার্তা দিলেন শহীদের পরিবার।
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাইটার্স বিল্ডিং অভিযান চলাকালীন পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়। তাঁদেরই একজন ছিলেন হুগলির সাহাগঞ্জের বাসিন্দা অসীম দাস। এরপর প্রতি বছর তাঁর পরিবার তৃণমূল কংগ্রেসের শহীদ সমাবেশে অংশ নিত।
এবার রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল একাধিক শিবিরে বিভক্ত হয়েছে। কালীঘাট তৃণমূল, ঋতব্রত তৃণমূল এবং এনসিপিআই তৃণমূল পৃথকভাবে ২১ জুলাই পালন করবে। পাশাপাশি জাতীয় কংগ্রেসও শহীদ দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি নিয়েছে। সেই কারণেই শহীদদের পরিবারকে আমন্ত্রণ জানাতে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন বিভিন্ন দলের নেতারা।
কয়েক দিন আগে কালীঘাট তৃণমূলের নেতা দোলা সেন অসীম দাসের বাড়িতে গিয়ে আমন্ত্রণ জানান। রবিবার ঋতব্রত তৃণমূলের হুগলি জেলা সভাপতি সন্তোষ সিংও তাঁর বাড়িতে যান। অন্যদিকে জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রীতম ঘোষ ও জেলা সভাপতি সুব্রত মুখোপাধ্যায় চিঠি দিয়ে শহীদ পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানান।
কংগ্রেস নেতা প্রীতম ঘোষ বলেন, “কংগ্রেস কখনও ২১ জুলাইয়ের শহীদদের ভুলে যায়নি। প্রতি বছর দলীয় কার্যালয়ে তাঁদের স্মরণ করা হয়। এ বছরও অসীম দাসের পরিবারকে আমাদের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।”
ঋতব্রত তৃণমূলের জেলা সভাপতি সন্তোষ সিং বলেন, “আমাদেরও শহীদ সমাবেশ হবে। সেখানে যোগ দেওয়ার জন্য অসীম দাসের পরিবারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।”
তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শহীদ অসীম দাসের দাদা শিবু দাস স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “এই দিনটা এলেই মন ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। প্রতি বছর যেমন যাই, এবারও যাব। দল ক্ষমতায় নেই, কিন্তু এই বিভাজন মেনে নিতে পারছি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে আলাদা দল করা ঠিক নয়। উনি ৩৩ বছর আমাদের পাশে থেকেছেন। তাই আমরা ওনার সঙ্গেই থাকব।”
একুশে জুলাইয়ের আগে শহীদ পরিবারকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও, হুগলির এই শহীদ পরিবারের বার্তা স্পষ্ট—তাঁদের সমর্থন এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই রয়েছে।