পালাবদলের পর ক্রমাগত ধাক্কায় কার্যত নিঃস্ব হয়ে গিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়কদের দুই তৃতীয়াংশ সঙ্গে থাকায় তৃণমূলের টিকিটে জেতা ঋতব্রত নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছেন। ফলে অস্বিত্ব সংকটে কালীঘাট তৃণমূল। ফিরহাদ, মদনের মতো দীর্ঘদিনের সৈনিকরাও মমতার হাত ছেড়েছেন। নিন্দুকরা খোঁচা দিয়ে বলছেন, মমতা-অভিষেকও নাকি যোগ দেবেন ‘আসল তৃণমূলে’! সত্যিই যদি তা হয়? কী করবেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়? জানালেন নিজেই।
ছাব্বিশের ফল প্রকাশের আগের মুহূর্ত পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পারেননি আগামীদিন কতটা কঠিন হতে চলেছে তাঁর জন্য। ফল প্রকাশের পরই দাবি করেছিলেন, তিনি হারেননি। মানুষ নাকি তাঁর সঙ্গে ছিলেন, কারচুপি করেছে বিজেপি! কিন্তু কয়েকটা দিন পেরতেই দেখা গেল, মানুষ কেন, দলের নেতারাই তাঁর সঙ্গে নেই। প্রথম দফায় ৬০ জন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরায়, পরিষদীয় দলের রাশ হাতছাড়া হয় মমতার। সময় যেত এগিয়েছে ঋতশিবিরে বেড়েছে বিধায়কের সংখ্যা। এদিকে লোকসভার সাংসদদের ২০ জনই কালীঘাট তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে এনডিএকে সমর্থন করতে এনসিপিআই নামে একটি দলের সঙ্গী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিস্থিতি এমন যে, মমতার প্রথম দিনের সঙ্গীরাই কেউ নেই তাঁর সঙ্গে। ফলে নিজের দলই হাতছাড়া হওয়ার পথে মমতার।
মশকরা করে অনেকেই বলছেন, এবার খোদ মমতা-অভিষেকও যোগ দেবেন ঋত শিবিরে! রবিবার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতকে প্রশ্ন করা হয়, যদি সত্যিই মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় ও অভিষেক হাত ধরতে চান, তাহলে তিনি কী করবেন? ঋতব্রতর সাফ কথা, “আমি ওদের নেওয়ার কেউ নই। ওরা ইচ্ছেপ্রকাশ করলে জাতীয় কর্মসমিতি সিদ্ধান্ত নেবে।” গতকাল অর্থাৎ শনিবার অভিষেক বলেছিলেন, বিদ্রোহীরা দলে ফিরলে তিনি ইস্তফা দিয়ে দেবেন। এদিন সেই প্রসঙ্গও তুললেন ঋতব্রত। বললেন, “আপনারা বলছেন, সবাই ইডি-সিবিআইয়ের ভয়ে আপনাদের সঙ্গ ছেড়েছে। যদি সত্যিই তা হয়ে থাকে তাহলে ভাবুন, যারা ইডি-সিবিআইয়ের ভয়ে গেছে তারা ফিরবে কি?”