টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলা অনশন প্রত্যাহারে রাজি হলেন লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে তার জন্য দু’টি শর্ত দিয়েছেন তিনি। রবিবার এমনটাই জানিয়েছেন সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। তিনি বলেন, ‘দু’টি শর্ত মানলেই সোমবার অনশন প্রত্যাহার করে নেবেন সোনম।’ কী সেই শর্ত?
শনিবার সোনমকে যন্তর মন্তর থেকে তুলে এনে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করেছে দিল্লি পুলিশ। কিন্তু এখনও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জানিয়েছেন, হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাঁকে জোর করে খাওয়াতে চাইছেন। কিন্তু সোনম অনশনে অনড় রয়েছেন। তরল খাবারও গ্রহণ করেননি।
সোমবার থেকে সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। ওই দিনই অনশন প্রত্যাহার করতে পারেন সোনম। তবে তার জন্য দু’টি শর্তের কথা জানিয়েছেন গীতাঞ্জলি। প্রথমত, বাদল অধিবেশনে যদি নিট প্রশ্নফাঁস-সহ শিক্ষাক্ষেত্রের একাধিক বিষয়ে জবাবদিহি করতে রাজি হতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক নেতারা যদি হাসপাতালে গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন, তা হলে তিনি সোমবার অনশন প্রত্যাহার করে নেবেন। এখানে রাজনৈতিক নেতা বলতে সরকার পক্ষের দিকেই তিনি ইঙ্গিত করেছেন বলে অনুমান ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের।
নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেছিলেন সোনম। তবে অনশন প্রত্যাহারের জন্য সেই দাবি রাখেননি তিনি। ফলে নিজের মূল দাবি থেকে তিনি সরে এলেন বলেই মনে করা হচ্ছে। গত তিন সপ্তাহের অনশনে কেন্দ্রের তরফে একবারও সাড়া মেলেনি। তাই রাতারাতি কেউ তাঁর সঙ্গে গিয়ে আলোচনায় বসবেন, এমন প্রত্যাশা অবশ্য সোনম সমর্থকরা করছেন না। তবে বিরোধী শিবিরের অনেকেই সোনমের সঙ্গে দেখা করেছেন।
সফদরজং হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, সোনমের রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন-সহ গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক এখন স্থিতিশীল। রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টেও সামান্য উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে। তবে দীর্ঘদিন অনশনের প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি। চিকিৎসকদের মতে, সোনমকে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত চিকিৎসা ও ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। তাই আপাতত তাঁর হাসপাতালে থাকাই উচিত।