রামমন্দিরের অনুদান তছরুপ মামলায় বড় অগ্রগতি। রবিবার সুপ্রিম কোর্টে মুখবন্ধ খামে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিল বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। এ বার বিচারপতিরা সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে পরবর্তী নির্দেশ দেবেন। উল্লেখ্য, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চই SIT-কে তদন্ত কতদূর এগিয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত কী কী তথ্য উঠে এসেছে, তার বিস্তারিত জানিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
রামমন্দিরে ভক্তদের দানের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা দেশে। এর পরেই গত জুনে তিন সদস্যের SIT গঠন করে উত্তরপ্রদেশ সরকার। কিন্তু একাধিক আবেদনকারী তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তাঁরা পাল্টা মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টে। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, আদালতের তত্ত্বাবধানে গোটা মামলার তদন্ত করুক সিবিআই। এই মামলায় ইতিমধ্যেই কেন্দ্র, উত্তরপ্রদেশ সরকার এবং রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টকে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
SIT ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে একটি প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তদন্ত শেষ করতে আরও কিছু সময়ও চেয়েছে তারা। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, মন্দিরের অনুদান সংগ্রহ ও গণনার ক্ষেত্রে একাধিক ত্রুটি ছিল। অভিযোগ, অনুদানের বাক্স যে ঘরে রাখা থাকত, সেখানে অনুমতি ছাড়াই যে কেউ প্রবেশ করতে পারতেন। অর্থ গণনা ও নজরদারির ব্যবস্থাতেও বেশ কিছু দুর্বলতা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
অনুদান তছরূপের মামলায় এখনও পর্যন্ত আট জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রাম শঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু এবং মনীশ যাদবকে জেরা করতে ৩৯ ঘণ্টার জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। অন্য অভিযুক্তরা বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তকারীরা এখন অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী কোথায় সরানো হয়েছে, সেই সূত্র খুঁজে দেখছেন। পাশাপাশি অনুদান সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্ট SIT-এর জমা দেওয়া সিলবন্দি রিপোর্ট খতিয়ে দেখবে। একই সঙ্গে আদালতে দায়ের হওয়া সিবিআই তদন্তের আবেদনগুলিরও শুনানি চলছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য অনুদান সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও গণনা ব্যবস্থায় কড়া নিয়ম চালু করার পরিকল্পনা করছে রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট।