এই সময়, বালুরঘাট: শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে বড় পদক্ষেপ বালুরঘাট পুরসভার। যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা রুখতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নজরদারি বাড়াতে শহরের ২৫টি ওয়ার্ডে ৫০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু করল তারা।
বর্তমানে পুরসভার অধীনে ১৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। এগুলি দেখভাল করে বালুরঘাট থানা। শহরে জনবসতি থেকে বহুতল ক্রমশ বাড়ছে। তাই ১৫০ ক্যামেরায় পুরো নজরদারি সম্ভব হচ্ছে না। সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার স্বার্থে তাই ক্যামেরা বাড়ানো হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ২০টি করে ক্যামেরা বসানো হবে। প্রথম পর্যায়ে এক থেকে পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে ১০০টি ক্যামেরা ইতিমধ্যেই বসানো হয়েছে। এই ক্যামেরা অন্তত উন্নতমানের। ১০০ ক্যামেরা বসাতে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। ক্যামেরার মনিটরিং সেন্টার হয়েছে পুরসভায়।
প্রতিটি ওয়ার্ডে আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা থাকলেও বহু মানুষ ও ব্যবসায়ী রাস্তার পাশে বর্জ্য ফেলছেন। পুরসভার তরফে একাধিক বার শহরবাসীকে সর্তক করা হলেও কোনও লাভ হয়নি। ক্যামেরার মাধ্যমে এ বার এই বিষয়ে নজরদারি চালানো হবে। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের অধীনে শহরে এই ক্যামেরাগুলি লাগানো হচ্ছে।
ফুটেজ দেখে নিয়মভঙ্গকারীদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করতে পারবে পুরসভা। এ ছাড়া শহরে কোনও অপরাধের ঘটনা ঘটলে অপরাধীকে চিহ্নিত করতে কাজে আসবে সিসিটিভি ফুটেজ। কোনও বিশেষ এলাকা থেকে অভিযোগ পেলে, সেখানকার ক্যামেরার ছবি খতিয়ে দেখে পুলিশ অভিযুক্তকে চিহ্নিত করতে পারবে। ক্যামেরায় ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে অপরাধের প্রবণতাও কমতে পারে বলে শহরবাসীর ধারণা।
বালুরঘাটের বাসিন্দা পীযূষ চক্রবর্তী বলেন, 'এলাকায় ডাস্টবিন থাকলেও তার বাইরে অনেকেই আবর্জনা ফেলে যান। এর ফলে দুর্গন্ধ ছড়ায়। সর্তকীকরণ বোর্ড লাগিয়েও কোনও লাভ হয়নি। পুরসভা ক্যামেরা লাগাচ্ছে শুনলাম। এতে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার প্রবণতা কমবে।' পুর চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহা বলেন, 'প্রতিদিন বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তার পরেও অনেকে যেখানে সেখানে জঞ্জাল ফেলছেন। তাই সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি অপরাধ দমনেও এই ক্যামেরাগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।'