শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। সোমবার প্রথম দিন থেকেই সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একদিকে নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ও অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুদান তছরুপের অভিযোগকে সামনে রেখে কোমর বাঁধছে বিরোধীরা। অন্য দিকে, একাধিক বিল পাস করিয়ে নেওয়াকেই পাখির চোখ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
১৩ অগস্ট পর্যন্ত চলবে সংসদের বাদল অধিবেশন। শিবসেনা এবং এনসিপিআই-এর দলবদলের পর সংসদে শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে এনডিএ শিবিরের। কিন্তু বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট কার্যত ছন্নছাড়া। একাধিক শরিক দলের মতভেদ সামনে চলে এসেছে।
রবিবার সর্বদলীয় বৈঠকে বিরোধী নেতারা প্রথমেই নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস এবং রামমন্দিরের অনুদান তছরুপের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা দাবি করেন। তবে সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, আইন প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাদের অগ্রাধিকার।
যে সব ইস্যুতে সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টা চলছে
নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ
রামমন্দিরের অনুদান তছরুপের অভিযোগ
সাংবিধানিক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহারের অভিযোগ
দলবদল ও রাজনৈতিক ভাঙন
মূল্যবৃদ্ধি
বিদেশনীতি
ইথানল
কেন্দ্রীয় সরকার পাল্টা পদক্ষেপের কথা জানাতে পারে সংসদে। নিট-সংক্রান্ত বিষয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। করা হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। রামমন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত তদন্তও চলছে। পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে পেশ ও পাস করানোর চেষ্টা করবে কেন্দ্র।
যে সব নতুন বিল আনা হতে পারে
আয়কর (সংশোধনী) বিল, ২০২৬
সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতির সংখ্যা) সংশোধনী বিল, ২০২৬
জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তিকরণ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬
জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬
ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) উন্নয়ন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬
ঝুলে থাকা বেশ কয়েকটি বিল নিয়েও এই অধিবেশনে আলোচনা হতে পারে। তার মধ্যে রয়েছে—
বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) বা FCRA সংশোধনী বিল, ২০২৬
‘বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান’ বিল, ২০২৫
এ ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানো এবং সরকারি বন্ডে বিনিয়োগকারী বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের করছাড় সংক্রান্ত অধ্যাদেশের পরিবর্তে আইন আনার পরিকল্পনাও রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের।
অধিবেশনের প্রথম পর্বের কার্যতালিকায় না থাকলেও, মহিলা সংরক্ষণ ও ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বিলে ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে ডিলিমিটেশন করে লোকসভা ও রাজ্যের বিধানসভাগুলিতে এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি লোকসভার আসনসংখ্যা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮৫০টি করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বিলে।
আগের অধিবেশনে বিলটি পাস হয়নি। কংগ্রেসের দাবি, নতুন করে বিল আনলে আগে সব দলের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তবে বিরোধী শিবিরের একাংশ বিলটিকে সমর্থন করতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। যেহেতু সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই কক্ষের সাংসদদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন, তাই এই বিল এলে এনডিএ-র সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ছোট দলগুলির সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।